আমরাও পারি

রচনা- টুকু মজনিউল

 


১।        আউটডোর- শাহানাদের কিশোর কিশোরী ক্লাব। দিন

কিশোর কিশোরী ক্লাব শাহানা তার বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে সবাই খুব হাসি খুশি শাহানার বিড়ালটা তাদের মাঝখানে বসে অন্যদের কথা শুনছে

শাহানা

হ্যারে মিলি, আমাদের কিশোর কিশোরী ক্লাবে নতুন সদস্য হয়ে কেমন লাগছে তোর?

মিলি

হুম, খুব ভালো লাগছে শাহানা।

শাহানা

এই জানিস, মিলি না খুব সুন্দর ছবি আঁকে।

 মিলি

আমি না চিত্র শিল্পী হতে চাই। ছবির মত দেশটাকে সাজাতে চাই। 

টুংলি

আমার ইচ্ছে করে আকাশ ছুঁতে। প্লেনে চড়ে মেঘের মধ্যে উড়ে বেড়াতে। ইস্, আমি যদি প্লেন চালাতে পারতাম!

মুকুল

আমি মানুষ গড়ার কারিগর হবো। আমি শিক্ষক হতে চাই. .

হাসি

আমি ডাক্তার হতে চাই ।

শাহানা

আমার ইচ্ছে করে মানুষের জন্যে কাজ করতে। আমাদের সমাজে যেসব অজ্ঞতা ও কুসংস্কার আছে সেগুলোকে দূর করে সবাইকে আলোর পথ দেখাতে চাই।

মুকুল

পারবি তুই?

শাহানা

হুম, অবশ্যই আমরা পারবো। মেয়েরা এখন প্লেন চালায়, দেশের জন্যে যুদ্ধ করে, রাজনীতি করে। 

শাহানার কথার শেষেই একটা মটর সাইকেল এসে থামে মটর সাইকেলে একজন এনজিও কর্মী তার নাম জুলিয়া

জুলিয়া

তোমাদের মধ্যে শাহানা কে?

শাহানা

জ্বি আমি,  কেন? (এনজিও কমী হাত এগিয়ে দেয়।)

জুলিয়া

আমি জুলিয়া, আমি এখানকার নারী উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা। আমাদের অর্গানাইজেশান নারীদের জন্যে কাজ করে। আমরা নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেই এবং নারীর ক্ষতমায়ন নিয়ে কাজ করি।  

মিলি

বাহ; খু ভালো তো. . .

জুলিয়া

আমি শুনেছি, শাহানা তার বন্ধুদের নিয়ে কিশোর কিশোরী ক্লাব নামে একটা সংগঠন তৈরী করেছে। যে সংগঠন শিশু বিবাহ বন্ধ ও মেয়েদের কমপক্ষে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করার ব্যাপারে কাজ করছে। 

হাসি

হ্যাঁ, আমাদের কিশোর কিশোরী ক্লাব অনেকগুলো শিশু বিয়ে বন্ধও করেছে।

শাহানা

আর আমরা চাই মেয়েরা কমপক্ষে বারো ক্লাস পর্যন্ত পড়াশোনা করবে। তার আগে বিয়ে নয়।

জুলিয়া

বাহ; খুবই ভালো খবর. . . শোন, আমি তোমাদের কাজ ও উদ্যোগের কথা শুনে এসেছি। আর বলতে এসেছি যে, তোমাদের কাজে কখনও যদি আমি কোন সাহায্য করতে পারি, তাহলে আমাকে বলোা। এই যে আমার ভিজিটিং কার্ড। ঠিক আছে?

শাহানা

অনেক ধন্যবাদ আপা, আপনি এসেছেন. . .  আমরা খুব খুশি হয়েছি।

জুলিয়া

আচ্ছা, আজ আসি। আশা করি আবার দেখা হবে।

জুলিয়া খুশি হয়ে চলে যায় শাহানাদের মুখে আনন্দ

 


২।        ইনডোর- শাহানাদের বাড়ীদিন        

শাহানাদের বাড়ী একপাশে বসে শাহানার মা মিলির মা বলে কথা বলছে

মিলি মিলিরে মা আজ শাহানাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে শাহানা মিলি বসে লুডু খেলছে শাহানার বিড়াল মিনি পাশে আছে মায়েরা পাশে বসে কথা বলছে মিলির মা দেখতে বেশ মোটাসোটা বেঁটে সে সবকিছুতেই অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখান টিভি অনুষ্ঠান ছায়াছবি দেখে নানারকম বিস্ময় সূচক কথা বলেন

মিলি

ছয় ছয় ছয় ছয় ছক্কা. . . জিতে গেছি

শাহানা

ইস্ আমি. . .

মিলি হাসে

শাহানা

মিলি আজ তুই আর খালাম্মা আসাতে খুব ভালো লাগছে।

মিলি

মা তো আসতেই চায় না। মা খালি. . .

হঠাৎ করে মিলির মায়ের কিছু একটা মনে পড়ে সে চিৎকার দিয়ে ওঠে

মিলির মা

হায় হায়. . . পোল্ট্রি সমবায় সমিতির সভানেত্রী, সর্বনাশ হয়ে গেলো. . . . . 

শাহানার মা

সর্বনাশ হয়ে গেলে মানে! কি হয়েছে গেলে মিলির মা?

মিলির মা

আপা টিভিতে সিনেমা আছে। ইস, সিনেমা শুরু হয়ে গেছে।

কথা বলতে বলতেই মিলির মা টিভির রিমোর্ট নিয়ে টিভি অন করে দেখা যায় সিনেমা চলছে সাথে সাথে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে চমকে যাওয়া শাহানা, শাহানার মা মিলি একক্ষনে ব্রাপারটা বুঝতে পেরে হেসে ওঠে কিন্তু মিলির মায়ের সেদিকে খেয়াল নেই সে উৎফুল্লাতার সাথে হাতে তালি দিতে দিতে কথা বলতে শুরু করে

মিলির মা

না, না, ওখানে যেও না। বোকা মেয়ে কি করছ তুমি!

 টিভিতে দেখা যায়, একজন খল নায়কের হাতে নায়িকা ধরা পড়েছে মিলির মায়ের মুখে টেনশান এমন সময় নায়ক একটি সাদা ঘোড়ায় চড়ে আসে ঘোড়া থেকে লাফ দিয়ে নেমে খল নায়ক তার সঙ্গীদের সাথে একাই মারামারি করে জিতে যায় মিলির মা হাত তালি দিয়ে ওঠে নায়িকাকে নায়ক কাছে ডাকে এবং তার চোখের দিকে গভীরভাবে তাকায় মিলির মার আনন্দে মন ভরে ওঠে এবং দীর্ঘ শ্বাস ফেলে

শাহানা

আন্টি চলেন চা খাবেন।

ফেইড আউট

 ৩।       শাহানাদের ডাইনিং। দিন

একই দিন ডাইনিং রুম শাহানা, মিলি, মিলির মা, তারা তাদের খাবার পর্ব শেষ করেছে তখনও পরিত্যক্ত খাবারগুলো টেবিলে রয়েছে তারা মিলির মায়ের অভিব্যক্তি দেখছে তিনি অনবরত কথা বলছেন এখনও তার মুখে ছবির প্রশংসা

মিলির মা

কি চমৎকার ছবি। নায়ক কিভাবে নায়িকাকে বাচাঁল, বাব্বা। খুব সাহস নায়কের! পুরুষের তো এরকমই হওয়া দরকার। তারা সবসময় মেয়েদের রক্ষা করবে।

শাহানার মা

কেন? মেয়েরা কি নিজেদের রক্ষা করতে পারে না?

মিলির মা

না মানে. . . মেয়েরাতো ছেলেদের মত সব কাজ করতে পারে না।

শাহানার মা

না আপা, মেয়েরাও পারে। সুযোগ পেলে মেয়েরাও ছেলেদের মত যোগ্য হতে পারে। মেয়েদের সুযোগ দিতে হবে

তখনি শাহানার ভাই বকুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঢাকা থেকে এসে দরজার সামনে দাঁড়ায় শাহানা বড় ভাইকে দেখেই খুশি হয়ে ওঠে

বকুল

কেমন আছো তোমরা সবাই?

শাহানা

ভাইয়া. . .  

মিলির মায়ের কথা থেমে যায় শাহানা তাড়াতাড়ি হাত ধোয় এবং শাহানার মায়ের মুখে হাসি ফুটে ওঠে বকুল ভিতরে ঢোকে

বকুল

মা, তোমাদের কেমন চমকে দিলাম। শাহানা এই যে তোর জন্যে একটা উপহার।

শাহানা

উপহার! আমার জন্যে? 

শাহানা খুব আশ্চার্য হয় সে বকুলের কাছ থেকে প্রাকেটটা নেয় 

মিলির মা

দেখাও! দেখাও!  তোমার ভাই কি আনলো? মেক-আপ বক্স?

বকুল হাসে

বকুল

আন্টি!

মিলি

শাহানা. . . দেখি দেখি. . . মোবাইল ফোন।

শাহানা এবার প্যাকেটটি নিয়ে খোলে দেখা যায় একটা নতুন মোবাইল ফোন মিলি মোবাইল ফোন দেখেই আনন্দে চিৎকার করে উঠে

মিলি

মোবাইল ফোন!

মিলির মায়ের মুখ সাথে সাথে কালো হয়ে যায় ক্যামেরা ক্লোজ করে মিলির মায়ের মুখে তিনি এই ঘটনায় একটুও খুশি হননি

মিলির মা

হায়! হায়! আপনি কি এই মোবাইল ফোন শাহানাকে ব্যবহার করতে দেবেন!

শাহানার মা মুচকি হেসে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে

মিলির মা

 তাহলে তো শাহানা এখন থেকে সারাদিন ফোনে শুধু ছেলেদের সাথে হ্যালো! হ্যালো! করবে।

 শাহানার মা মুচকি হাসে।

শাহানার মা

আমার মেয়ে আর আমি খুব ভাল বন্ধু। তুমি অত চিন্তা করো না। ও আমাকে সবকিছু জানায়, আমিও ওর খেয়াল রাখি।

বকুল

আন্টি, আজাকাল মোবাইল শুধু কথাবলার জন্যই না। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এটা সাহায্য করে।

মিলির মা

হুহ্! পরে কাঁদতে হবে বলে দিলাম। আয় মিলি, আমরা যাই।

মিলির মা মিলিকে টানতে টানতে নিয়ে বেরিয়ে যায় শাহানা শাহানার মা খুব অবাক মিলি যাওয়ার সময় বারবার ফিরে শাহানার দিকে তাকায়

 

৪।        ইনডোর- শাহানাদের কলেজ

শাহানা এবং হাসি ক্লাস রুমে গল্প করছে শাহানার চোখে মুখে অস্থিরতা

শাহানা

হাসি, মিলিকে আজকাল কেমন যেন অন্যমনস্ক লাগে। 

হাসি

কেন? তুই জানিস না, মিলির বাবা খুব অসুস্থ।

শাহানা

বলিস কি?

হাসি

হ্যাঁ, শুনলাম ওর বাবার অপারেশনের জন্যে অনেক টাকা দরকার।

শাহানা

মিলি আমাদের একথা বলেনি কেন? এতো খুব চিন্তার বিষয়। মিলির তো কোন বড় ভাই বোনও নেই। মিলিও ছোট। মিলি বড় হলে না হয় নিজে আয় করে বাবার চিকিৎসা করাতে পারতো।

মিলি যাচ্ছিলো শাহানা কথাটা শুনে মিলি থামে তাকে দেখে ফেলে হাসি

হাসি

মিলি! মিলি, প্লিজ মিলি. .  দাঁড়া. . . 

 মিলি ঘুরে দাঁড়ায় শাহানাকে দেখে ইতস্তত করে আবার চলে গিয়েও ইতস্তত দাঁড়ায় শাহানা হাসি তার কাছ এগিয়ে আসে

শাহানা

কি হয়েছে মিলি? তোর বাবা নাকি অসুস্থ!

মিলি

হ্যাঁ. . . বাবা খুব সুস্থ. . . আমি যাই. . . . . .

 

সে আবার হাঁটা শুরু করে শাহানা হাসি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে মিলি চলে যায়

 

৫।        আউটডোর- কোন একটা নির্জন স্থান। দিন 

মিলি কোন একটা গাছের নিচে চিন্তিত বসে আছে

মিলি

আমি কি বাবার জন্যে কিছুই করতে পারবো না?


এনজিও কর্মী জুলিয়া আপা মটর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় মিলিকে দেখে দাঁড়ায়

জুলিয়া

তুমি কিশোর কিশোরী ক্লাবের  সদস্য না? কি হয়েছে তোমার? তুমি এখানে এভাবে বসে আছো কেন?


মিলি কেঁদে ফেলে সব ঘটনা খুলে বলে ঘটনা বলার সময় মিলির কথা শোনা যাবে না জুলিয়া গাইন তাকে শান্তনা দেয় 

জুলিয়া

মন খারাপ করো না মিলি।  তুমি আমার সঙ্গে চলো তো, দেখি আমি তোমার জন্যে কিছু করতে পারি কি না।

মিলি

আপনি আমার জন্যে কি করবেন আপা?

জুলিয়া

শোন মিলি, তোমার বয়সে আমিও তোমার মত বিপদে পড়েছিলাম. . . আমি যখন ক্লাস টেনে পড়ি তখন হঠাৎ করে আমার বাবা মারা যায়। বাবা মারা যাওয়ার পর আমার পড়লেখাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু আমার খুব পড়াশোনা করার ইচ্ছে ছিলো। শেষে ঠিক করলাম টিউশনি করে পড়াশোনা করবো। তুমি জানো, আমি টিউশনি করে মাষ্টার্স পাশ করেছি এবং সংসারের খরচ চালিয়েছি। এখন চলো তো আমার সাথে।

জুলিয়ার কথা শুনে মিলি অবাক হয় জুলিয়া মিলিকে তার মটর সাইকেলে করে নিয়ে যায়

 

৬।       ইনডোর- একটা অফিস           দিন  

মিলি একটা অফিসে কাজ করছে জুলিয়া তার পাশে দাঁড়নো মিলির মুখে হাসি

  

৭।       ইনডোর- শাহানাদের বাড়িদিন        

শাহানাদের বাড়ি মা, শাহানার বাবা, বকুল মা কথা বলছে

বাবা

হ্যাঁ, হ্যাঁ, তুমি যাও। মিলির মায়ের সাথে কথা বলে দেখো, মিলির বাবার অপারেশনে করতে কত টাকা লাগবে।

 

তখনই মিলির মা কাঁদতে কাঁদতে শাহানাদের বাড়িতে ঢোকে

মিলির মা

আমি জানিনা, কার দোষে এই রকম হয়ে গেলো।

শাহানার মা

আমরা তো এক্ষুনি তোমাদের বাড়িতে যাচ্ছিলাম . . . . . .বস।

মিলির মা

না, না বসার সময় নাই আপা। মিলিকে পাওয়া যাচ্ছে না।

 শাহানা পানি আনতে যেতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। 

শাহানা

কি! মিলিকে পাওয়া যাচ্ছে না?

মিলির মা

না, মিলি কলেজের অতিরিক্ত ক্লাশ শেষ করে এখনো বাড়ি ফেরে নাই আপা।

শাহানা

অতিরিক্ত ক্লাশ! 

মিলির মা

গত দশ বারো দিন, মিলি কলেজে অতিরিক্ত ক্লাশ করে। তারপর বাড়ি ফেরে।

শাহানা

না, আমাদের কলেজে তো কোন অতিরিক্ত ক্লাস হয় না।

মিলির মা শাহানার মুখের দিকে তাকায় তার চোখে মুখে বিস্ময়

মিলির মা

এ্যাঁ. . . তোমাদের কলেজে কোন অতিরিক্ত ক্লাস হয় না! তারমানে তুমি বলতে চাও মিলি আমাকে মিথ্যে কথা বলে. . .  হায়, হায় । ওর বাবার মরনাপন্ন অবস্থা, আর ও প্রেম করে বেড়াচ্ছে. . . . হায়. . . . . হায় . . . .

শাহানার মা

শান্ত হও। চিন্তা করো না, শাহানা ও শাহানার বন্ধুরামিলে নিশ্চয় কিছু একটা করবে।

শাহানা ফোনে কথা বলতে বলতে দরজা দিয়ে বাইরে বের হয়ে যায় শাহানা কথা বলা শুরু করে এবং অন্য পাশ থেকে একটি মেয়ে উত্তর দেয় মেয়েটি তার মাথা ঝাঁকায় [সেই প্রতিচ্ছবিটি পপ] তারপর শাহানা আর একটি মেয়েকে ফোন করে সেও তার মাথা ঝাঁকায় শাহানার মা বাইরে বেরিয়ে আসে সে শাহানার সাথে কথা বলে শাহানা এক পর্যায়ে জুলিয়া গাইনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে জুলয়া গাইন তাকে জানায় যে মিলিকে নিয়ে চিন্তা করো না

শাহানা

হ্যাঁ, তাই! কোথায়?

 

শাহানার মুখে হাসি ফুটে ওঠে শাহানা মিলির মায়ের কাছে যায়

শাহানা

খালাম্মা, আমরা মিলিকে খুজে পেয়েছি।

মিলির মা

এ্যাঁ

 মিলির মা কিছুক্ষণ শাহানার দিকে বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকে তারপর অজ্ঞান হয়ে যান

ফেইড আউট

কিছুক্ষণ পর ক্যামেরা মিলির মায়ের চোখের উপর তিনি তার চোখ খুলে পিট পিট করেন  

মিলির মা

মিলি!

মিলির মা আস্তে আস্তে উঠে বসে এবং মিলিকে জড়িয়ে ধরে তারপর তিনি রাগান্বিত হোন

মিলি

মা.. . .

মিলির মা

কোথায় ছিলি?  আমাকে মিথ্যে বলে তুই কী করছিলি এতক্ষণ?

মিলি

মা, আমি একটা খন্ডকালীন চাকরি  নিয়েছি। যাতে বাবার অপারেশনের টাকা যোগার করতে পারি।

শাহানা

খালাম্মাকে কেন বলিস নি মিলি?

মিলি

আমি বাবার চিকিৎসার জন্যে নিজে উপার্জন করতে চাইছিলাম। মা জানলে হয়ত আমাকে চাকরি করতে দিতো না। কারণ মা মনে করে, আমরা মেয়েরা তো বাবা-মা ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারি না!

শাহানার বাবা

কিন্তু আজ এত দেরী হলো কেন?

মিলি

আজ কাজ একটু বেশী ছিল তাই দেরী হয়ে গেছে। আমি মাকে ইচ্ছা করে চিন্তায় ফেলতে চাইনি. . কিন্তু .

শাহানার মা

 মিলি তুমি অনেক সাহসী এবং দায়ীত্বশীল মেয়ে। তোমাদের বিপদে আমরা তোমাদের সাথে আছি।

শাহানার বাবা

তুমি চিন্তা করোনা মা। আমরা সব্ইা মিলে তোমার বাবার চিকিৎসার জন্যে কিছু টাকার ব্যবস্থা করতে পারবো।

 মিলির মা অবাক হয়ে সবার কথা শোনে শাহানা মিলিকে জড়িয়ে ধরে

শাহানা

আমরা সবাই তোদের সাথে আছি মিলি।

 মিলির মা শাহানাকে জড়িয়ে ধরে

 

৮।       আউটডোর- হাসপাতাল। দিন

ক্যামেরা একটা হাসপাতালের সাইনবোর্ডের উপর। শাহানা, হাসি এবং শাহানার বাবা-মা সবাই হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছে। মিলি এবং মিলির মা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসে।

শাহানার মা

অপারেশন শেষ হলো? কেমন আছেন উনি?

মিলির মা

জ্বি আপা, ডাক্তার বলেছেঅপারেশন খুব ভালেঅ হয়েছে। আরও সপ্তাহ খানেক হাসপাতালে থাকতে হবে। সবকিছুই সম্ভব হয়েছে আপনাদের জন্যে। সব কিছুই সম্ভব হয়েছে আপনাদের জন্য।

শাহানা

খালাম্মা, এবার আপনার বিশ্বাস হচ্ছে তো, মেয়েরাও বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে পারে?

মিলির মা

হ্যাঁ শাহানা, আমি এখন বুঝতে পেরেছি। আমার মিলি মা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াবে। আমি খুব খুশি হয়েছি মা।

 

মিলির মায়ের মুখে হাসি ফুটে ওঠে শাহানারা সবাই খুশি

 

শাহারারা সবাই

হুররে. . . 

 

সবাই হেসে ওঠে

 

সমাপ্ত

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন