শাহানা ও তার সাথীরা
রচনা- টুকু মজনিউল
১। আউটডোর – কলেজ মাঠ। তিন
শাহানাদের কলেজ মাঠের দোলনায় শাহানা দোল খাচ্ছে। রানু তার দোলনায় ধাক্কা দিচ্ছে। একটু দূরেই টুংলি, হাসি ও মুকুল গাছের নীচে বসে আড্ডা দিচ্ছে। শাহানা পাশের দোলনায় দোল খাচ্ছে।
শাহানা
রানু আস্তে.. ..
রানু
না শাহানা..আরো জোরে...
শাহানা
না.....
মুকল
কলেজের প্রথম দিনটা খুব মজা হলো তাই না রে!
হাসি
হ্যাঁ, বাংলা ক্লাসটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
মুকল
হা হা.. তাই!
শাহানাদের বন্ধু টুংলি আসে।
টুংলি
হা হা...মুকুল বলটা ধর।
শাহানা
এতক্ষণ, কোথায় ছিলিরে টুংলি?
টুংলি
এই তো, এই পএিকাটা পড়ছিলাম। জানিস,আমাদের দেশে বেশীরভাগ মেয়েরই ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, চিন্তা করতে পারিস!
রানু
জানিস, সেদিন ময়না খালা বললো ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে বেশীর ভাগ মেয়ে এক বছরের মধ্যে সন্তান জন্ম দেয়। আর ২০ বছরের আগে সন্তান নিলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।
মুকুল
এই, তোদের সোমার কথা মনে আছে? অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল, পরে বাচ্চা হওয়ার সময় তার অনেক স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিয়েছিলো। সেই জটিলতার কারণে এখনও সে ভুগছে।
শাহানা
হুম, সোমার কথা মনে পড়লে আমার খুব মন খারাপ হয়ে যায়। ওর জন্য আমরা বন্ধুরা কিছুই করতে পারলাম না।
বন্ধুদের সবার মন খারাপ হয়ে যায়।
২। আউটডোর- মিতাদের বাড়ি। দিন
মিতাদের বাড়িতে ঘটক ও বর এসেছে। তারা মিতার বাবার সাথে কথা বলছে। মিতা ঘরের ভিতর থেকে জানালায় দাঁড়িয়ে ঘটকের কথা শুনছে।
মতলব ঘটক
হা হা হা. . . পাত্র তো তো ভালোই পাইছেন। ডুবাই ফেরত। মাইয়া আপনার সুখেই থাকবো। মাশাল্লাহ মাইয়ার বয়সও কম আছে।
ঘটকের চোখে মুখে আনন্দ। মিতার বাবা ও বরও খুশি।
৩। আউটডোর- একটা গাছের নিচে। দিন
শাহানা তার বন্ধুরা সাথে একটা গাছের নীচে দাঁড়িয়ে মিতার বিয়ে নিয়ে কথা বলছে। তারা সবাই চোখে মুখে চিন্তা।
টুংলি
শাহানা, মিতার নাকি বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
শাহানা
মিতার বিয়ে! ও তো ক্লাস সেভেন এ পড়ে।
মুকুল
হ্যাঁ, আমাদের বন্ধু আরিফ বলল, মতলব ঘটক নাকি ওর বোন মিতার বিয়ের জন্যে মিতার বাবা-মায়ের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। ছেলে দুবাই থেকে মাত্র কয়েক দিনের জন্য দেশে এসেছে। তাই তাড়াতাড়িই বিয়ে হয়ে যাবে।
হাসি
এ তো খুব চিন্তার কথা শাহানা!
মুকুল
তাতো বটেই, আমার বন্ধু বলল, মিতা আরো পড়াশোনা করতে চায়।
টুংলি
আমরা তাহলে মিতার বিয়েটা কিভাবে বন্ধ করবো?
শাহানা
আমার মাথায় একটা ভাল বুদ্ধি এসেছে টুংলি। চল আমরা মিতার বাবার সঙ্গে কথা বলি। উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করি যে, আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকাল। আর ১৮ এর আগে একটি মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিয়ে ও সংসার করার জন্য উপযুক্ত হয় না।
টুংলি, হাসি ও মুকুল পরস্পরের দিকে তাকায়।
৪। আউটডোর- মিতার বাড়ি। দিন
মিতার বাড়ি। মিতা মন খারাপ করে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। শাহানা, মুকুল, রানু ও টুংলি মিতার বাবার সামনে দাঁড়ানো। মিতার বাবার মেজাজ খুব খারাপ।
মিতার বাবা
আমার মেয়েকে আমি কোন বয়সে বিয়ে দেবো, কার সাথে বিয়ে দেবো সেটা আমি বুঝবো. . . আমাকে তোমরা জ্ঞান দিতে এসো না. . যাও।
মুকুল
না মানে চাচা. . .
মিতার বাবা
বললাম তো, যাও . ..
মিতার বাবা ধমক দেয়। শাহানাদের মন খারাপ হয়ে যায়। তারা একে অপরের দিকে তাকায়। মিতার বাবা ঘরের ভিতরে চলে যায়।
৫। আউটডোর- শাহানার বাড়ি। দিন
শাহানার মা-বাবা বারান্দায় বসে কোন একটা কাজ করছে। শাহানা, রানু এবং টুংলিও বারান্দায় বসে আছে। তাদের মন খারাপ। মিনি নানারকম দুষ্টুমি করছে। শাহানা মিনির দুষ্টুমীতে বিরক্ত হয়ে যায়। সে মিনিকে ধমক দেয়।
শাহানা
আহ্ মিনি. . . চুপ করে বসো তো. . .
শাহানার ধমক খেয়ে মিনি টুংলির কোলে গিয়ে বসে। তারও মন খারাপ। বাবা ও মা শাহানার দিকে তাকায়।
বাবা
কি হয়েছে শাহানা, তোমাদের মন খারাপ কেন?
শাহানা
বাবা, মিতার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।
বাবা
মিতার বিয়ে! ওইটুকু মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে? না না, এটা মিতার বাবা ঠিক করছে না।
টুংলি
আমরা মিতার বাবার সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম চাচা, মিতার বাবা আমাদের ধমক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
বাবা
তাহলে তো সমস্যা। কিন্তু কিছু একটা তো করা দরকার।
শাহানা
মিতার যে পাত্রের সঙ্গে বিয়ে কথা হয়েছে, তার সঙ্গে কি আমরা কথা বলতে পারি না বাবা?
মা
সে কি তোমাদের সঙ্গে কথা বলবে?
হাসি
আমার মনে হয় পাত্র আমাদের কথা শুনবে না।
শাহানা
শুনুক না শুনুক, চেষ্টা করতে তো দোষ নেই, তাই না বাবা?
বাবা
হুম . .
৬। আউটডোর- বরের বাড়ি। দিন
শাহানা, মুকুল, রানু এবং টুংলি বরের বাড়ীতে তার মুখোমুখি বসে আছে। বর বেশ বিরক্ত।
বর
তোমরা কি মিতার বন্ধু?
মুকুল
না, মিতা আমাদের এক বন্ধুর ছোট বোন। আচ্ছা, আপনি মিতাকে কেন বিয়ে করতে চান?
ছেলে সরাসরি কথা বলে।
বর
বাহ! মিতা সুন্দরী মেয়ে।
শাহানা
আপনি কি জানেন মিতা এখন ক্লাস সেভেনে পড়ে? ওতো আরো পড়াশোনা করতে চায়।
বর
মেয়েদের এত পড়াশোনার কি আছে!
মুকুল
ভাইয়া, এখনও কিন্তু সে শিশু।
টুংলি
পএিকায় দেখলাম সন্তান জন্মদানের সময় কম বয়সী মা ও তার শিশুর স্বাস্থ্য ঝুকি বেশি থাকে।
বর
শোন, তোমরা ছোট মানুষ, তোমাদের সাথে এ নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না. . . তোমরা যাও।
শাহানা, টুংলি, রানু ও মুকুলের মুখ মুকিয়ে যায়।
শাহানা
আমরা ছোট মানুষ হলে, মিতাতো আরো ছোট মানুষ, তাই না ভাইয়া?
বর
আমার যা বলার আমি বলেছি, তোমরা যাও. . .
শাহানা, মুকুল ও টুংলি মন খারাপ করে চলে যায়। বর চিন্তিত।
৭। আউটডোর- একটা গাছ তলা
মিতা, তার বন্ধু টুংলি ও মুকুল মিতার বিয়ে কিভাবে বন্ধ করা যাবে তাই নিয়ে কথা বলছে।
টুংলি
এখন কী হবে শাহানা?
শাহানা
উম... চিন্তা করিস না। আমার মাথায় আরও একটা বুদ্ধি আছে। শোন. . .
৮। আউটডোর- জঙ্গলের রাস্তা। রাত
সন্ধ্যা। শাহানার বাড়ীর পিছনের জঙ্গল। আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। মুকুলে মুখে কালো রং মাখানো এবং পরনে কালো পোশাক দেখা যায়। তার হাত দুটি শুধু সাদা। হাসির পরনে সাদা পোশাক এবং মুখেও সাদা রং করা। শুধু তার পা দুটি কালো যাতে মনে হয় সে ভাসমান অবস্থায় আছে। টুংলি পরনে লাল কাপড়। হাতেও লাল ওড়নার কাপড়। এদের কাউকেই ঠিকমত চেনা যায় না। শাহানাকে সবার শেষে দেখা যায়। শাহানা মিনিকে সাথে নিয়ে গাছের উপর বসে আছে। একটা ভূতুরে অবস্থা। শাহানা ফিস ফিস করে কথা বলে।
শাহানা
এই এই সবাই লুকিয়ে পড়ো! মতলব ঘটক আসছে. . .
মতলবকে আসতে দেখা যায়। সে বিরবির করতে করতে এগিয়ে আসতে থাকে। এগিয়ে আসার সাথে সাথে তার কন্ঠস্বর বাড়তে থাকে।
মতলব
উরে বাবা. . . ভয় পাই না, আমি ভয় পাই না . . . . . . ভুত টুত বলে কিছু নাই.
সে কিছু একটার শব্দ পায়। সাথে সাথে ভয়ে থমকে দাঁড়ায়। এদিক ওদিক দেখে। ভয়ে জমে যেতে থাকে সে। কিছু একটা বিরবির করে পড়ে বুকে ফুঁ নেয়।
মতলব
না না আমি ভয় পাই না......... উরে বাবারে. .
মতলব আবার শাহানাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। শাহানার গাছের নীচে আসতেই শাহানা তার গাছের ডাল ঝাঁকায়। মতলব ভয়ে লাফিয়ে উঠে।
মতলব
কে. . . কে . . . . কে ওখানে? কি-কি ওটা?
হাসি দুই গাছের মাঝখানে সাদা কাপড় পড়ে দাঁড়ায়। মতলব ঘুর্নির মত ঘুরতে থাকে।হাসি ভুতের মত গলা করে কথা বলে ওঠে।
হাসি
মতলব ঘটক তুমি অনেক মেয়ের জীবন ধ্বংস করেছো, ভাল হয়ে যাও!
মতলব ভয়ে আবার বিরবির করে কিছু একটা পড়ে বুকে ফুঁ নেয়।
মতলব
না, না, আমি কারো কোন ক্ষতি করি নাই। আমি একজন গরীব ঘটক।
হাসি
গরীব ঘটক, তুমি আমার মাকে বুঝিয়ে ১৪ বছর বয়সে আমাকে বিয়ে দিয়েছিলে। আর তারপর সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে আমার মৃত্যু হয় ।
মতলব
ও. . ও. . ঐটা . . . ঐটা আমার দোষ না।
হাসি উধাও হয়ে যায় এবং দুটি সাদা মূর্তির মত কিছু জঙ্গলে দুলে দুলে নাচতে দেখা যায়। মতলব ভয়ে কাঁপতে থাকে।
মুকুল
আমরা সেই সন্তান যার মা কম বয়সী ছিলো। আর আমরা জন্ম নেওয়ার সময় মারা গিয়েছি।
মুকুল মূর্তির মত দুই হাত বের করে মতলবের দিকে এগিয়ে আসে। মতলব ভয়ে মাটিতে বসে পড়ে এবং দুই হাত দিয়ে মাথা ঢাকে। সে বিলাপ করতে থাকে।
মতলব
ও বাবাগো মাগো . . . এতে আমার তো কোন দোষ নাই!
তারপর টুংলি লাল কাপড়ের ঢেউ দিতে দিতে কাছে আসে। মতলব আরও ভয় পায়।
টুংলি
তুমি অল্প বয়সের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে আমাদের জীবনের সব স্বপ্ন, আকাঙ্খা ধংস করে দিয়েছো।
মতলব এবার ভয়ে মাটিতে বসে পড়ে। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদে।
মতলব
না. . না. . আমি এসব. . . ও না আমাকে বাঁচতে দাও. . আমাকে মারে ফেলো না
শাহানা
ঘটক, তুমি কি এখনো বলতে চাও যে, তুমি দোষী না?
মতলব
না, না . . .হ্যাঁ . . . . . . আমারই দোষ। আমার ভূল হয়ে গেছে।
শাহানা
তুমি আর কোন মেয়েকে ১২ ক্লাস পড়ালেখা শেষ করার আগে, তার বিয়ের ঘটকালী করবা না। ঠিক আছে?
মতলব
ঠিক আছে. . . ঠিক আছে. . . আমি রাজী।
শাহানা
তুমি বাবা-মাদের এও বুঝিয়ে বলবে যে, ২০ বছরের আগে সন্তান জন্মদান, মা ও শিশুর জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
মতলব
ঠিক আছে? ঠিক আছে. . আমারে যাইতে দাও. . .
সাথে সাথে অন্যপ্রান্ত থেকে মুকুল ভূতের মত শব্দ করে ওঠে। মতলব আবারও ভয় পেয়ে যায়। কেঁপে ওঠে সে।
টুংলি
আস্তে দুষ্টু ঘটক! শোন, আমরা তোমার উপর নজর রাখবো। যদি তুমি কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের ঘটকালী বন্ধ না কর,তাহলে . . . .
মুকুলের সাদা হাত মতলবকে ধরার জন্য এগিয়ে আসে। মিনি লাফ দিয়ে দিয়ে মতলবের মাথার উপর বসে। মতলব ভয়ে পেয়ে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পালায়। ভূতেরা হাসতে থাকে। মিনি ম্যাও ম্যাও করতে থাকে।সে ভয়ে আবার চিৎকার করে ওঠে।
মতলব
ওরে আল্লাহরে. . . .উরে বাবারে...
মতলব ঘটক দৌড়ে পালায়। সবাই হেসে ওঠে।
৯। আউটডোর- গাছতলা
শাহানা ও তার বন্ধুরা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।
রানু
মতলব ঘটক মনে হয় ভয় পেয়েছে।
শাহানা
হা হা হা. . . . হ্যাঁ। তবে বিষয়টা হলো, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা। তাই, আমাদের সবার উচিত এই নিয়ে কাজ করা।
মুকুল
কী কাজ করবো শাহানা?
শাহানা
চল, আমরা সবাই মিলে শিশু বিবাহ বন্ধে একটা সংগঠন করি।
হাসি
খুব ভালো প্রস্তাব. . . আমি রাজি
শাহানা
আমরা আমাদের এলাকার সবাইকে বুঝাবো যে, মেয়েদের কমপক্ষে ১২ ক্লাস পর্যন্ত পড়তে দিতে হবে এবং ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া যাবে না কারন ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকাল।
টুংলি
কিন্তু এর জন্যে তো আমাদের বাবা-মা, গ্রামের দুই একজন মুরুব্বি এদেরকেও আমাদের সাথে নিতে হবে। এরা আমাদের সাথে থাকবে তো?
শাহানা
সবাই হয়ত থাকবে না। চেয়ারম্যান চাচা, শিক্ষক এবং বাবা-মাদের সাথে আমাদের আগে কথা বলতে হবে।
হাসি
আমরা আমাদের অন্য বন্ধুদেরও বলতে পারি।
টুংলি
তাহলে তো সংগঠনের একটা নাম দিতে হবে?
শাহানা, টুংলি ও হাসি চিন্তা করতে। হঠাৎ শাহানার মাথায় একটা নাম আসে।
শাহানা
উম্ ...... ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’নাম দিলে কেমন হয়?
টুংলি
আমার নামটা পছন্দ হয়েছে। হাসি তোর?
হাসি ছোট একটা লাঠি তুলে নিয়ে খুশিতে লাঠি ঘুরায়।
হাসি
আমারও পছন্দ হয়েছে। ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’.. .
সাথে সাথে টুংলি ও শাহানাও হাত ঘুরাতে থাকে।
মুকুল
আর এই ক্লাবের নেতৃত্ব দেবে শাহানা, কি বলিশ তোরা?
শাহানা অবাক হয়।
শাহানা
আমি!
হাসি
অবশ্যই। সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। হুররে. . . . ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’
সবাই হাসি হাত তালি দেয়। সবার মুখে হাসি।
১০। আউটডোর- শাহানার বাড়ি। দিন
শাহানারা খুবই খুশি খুশি মনে বাড়ি ফিরছে। বাড়ির সামনের বাগানে প্রজাপতি দেখে খুবই আনন্দিত হয়, হাসে।হাসলো,শাহানার হাসি শুনে মা বুঝবে যে শাহানা ফিরেছে।শাহানা তার মাকে মুরগীর বাচ্চাদের খাওয়াতে সাহায্য করছে। পাশেই বাবাও কাজ করছে। শাহানা কাজ করতে করতে বাবা মায়ের সাথে কথা বলে।
শাহানা
আহ্!!! প্রজাপতি,কী সুন্দর!!! ওহো,, উড়ে গেল,হা হা হা...
মা
শাহানা, তুই ফিরলি।
শাহানা
হ্যাঁ মা।
শাহানা
বাবা, আমরা সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বাবা
তাই!
শাহানা
হ্যাঁ, আমরা বন্ধুরা মিলে ক্লাস টুয়েলভ্ ক্লাব নামে একটা ক্লাব তৈরী করেছি। এই ক্লাব থেকে আমরা সবাইকে বোঝাবো যে, মেয়েদের কমপক্ষে১২ ক্লাস পর্যন্ত পড়তে দিতে হবে এবং ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না।
বাবা
বাহ; খুব ভালো চিন্তা করেছো তো. . . যদিও কাজটা খুব কঠিন।
শাহানা
হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা সবাই আমাদের সাহায্য করলে আমরা পারবো বাবা। তুমি চেয়ারম্যান চাচাকে আমাদের ক্লাবের কথা জানিও।
বাবা
হ্যাঁ, অবশ্যই জানাবো। এছাড়াও আমি ইউএনও এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকেও তোমাদের উদ্যোগের কথা জানানোর ব্যবস্থা করবো।
মা
তোমাদের এই ক্লাবের মাধ্যমে যদি আমাদের এলাকায় শিশু বিয়ে বন্ধ হয় তাহলে খুব ভালো হয় মা। আচ্ছা, শুনলাম মিতার বিয়ে নাকি বন্ধ হয়ে গেছে!
শাহানা
হ্যাঁ, মিতার বিয়ে আমরা বন্ধ করতে পেরেছি মা। যে ছেলের সাথে মিতার বিয়ে ঠিক হয়েছিল সে মিতাকে বিয়ে করবেনা বলেছে।
মা
কিন্তু ছেলে তো আগে বলেছিলো, মিতাকে সে বিয়ে করবেই. . হঠাৎ কি এমন হলো যে সে তার সিদ্ধান্ত বদলে ফেললো!
বাবা
কি আর হবে, শিক্ষিত ছেলে, পরে হয়ত ভেবে দেখেছে যে, অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে করা ঠিক হবে না।
শাহানা, টুংলি, রানু ও হাসি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসে।
টুংলি
আর মতলব ঘটক মনে হয় ভয় পেয়েছে!
শাহানারা হেসে ওঠে। শাহানার বাবা ও মা’ও মুচকি হাসে।
হাসি
সে মনে হয়,আর কোনোদিন অল্প বয়সী মেয়ের বিয়ের ঘটকালী করবেনা..হা হা হা
শাহানা
মতলব ঘটক আবার কোন অল্প বয়সী মেয়ের বিয়ে দিতে গেলে , আমাদের ক্লাস কিশোর কিশোরী ক্লাব তো আছেই।
মা ও বাবা শাহানার দিকে তাকিয়ে হাসে। হাসি ও টুংলি শাহানাকে জড়িয়ে ধরে।
সমাপ্ত

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন