১। আউটডোর- ঢাকা শহরের রাস্তা। দিন।

পারভেজ খান তার মা তহুরা খানকে নিয়ে গাড়িতে যাচ্ছে। হঠাৎ একটা মাইক্রোবাস গাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ায়। পারভেজ খান প্রথমে বুঝতে পারে না। কিন্তু মাইক্রোবাসে দুইতিনজন যুবককে দেখে সে ভয় পায়। মা তহুরা খানও ভয় পায়। পারভেজ খান ড্রাইভারকে গাড়ি ঘুরিয়ে দ্রুত চলে যেতে বলে। কিন্তু ড্রাইভার গাড়ি ঘুরানোর আগেই দুইজন যুবক এসে অস্ত্র উচিয়ে ধরে। একজন যুবক পারভেজ খানকে আচমকা গুলি করে। পারভেজ খান গাড়ির মধ্যে লুটিয়ে পরে। তহুরা খান চিৎকার দিয়ে ওঠে।





২। ইনডোর- তহুরা খানের রুম। রাত।

চিৎকার দিয়ে তহুরা খান ঘুম থেকে জেগে ওঠে। তার গা ঘেমে গেছে। চোখে মুখে ভয়। ফ্লোরে শুয়ে থাকা তহুরার কাজের লোক পপি লাফ দিয়ে উঠে বসে।

পপি
 কি হইলো আম্মাজান, কি হইলো আপনার?

তহুরা খান কোন কথা বলতে পারে না। সে গোঙাতে থাকে। দৌড়াতে দৌড়াতে আসে পারভেজ খান ও জেরিন খান।

পারভেজ
কি হয়েছে মা? কি হয়েছে আপনার?

তহুরা খান তখনও কথা ঠিকমত বলতে পারছে না। কিন্তু সে বলার চেষ্টা করতে করতে ইশারায় পারভেজকে কাছে ডাকে। পারভেজেএগিয়ে যায়।

তহুরা
আয় বাবা, আমার কাছে আয়। আমি খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছি বাবা।

একে একে আসে পারভেজের ছোট ভাই শরিফ, মারুফ ও তাদের স্ত্রী শ্যামলী ও রায়না। সবাই এসে মায়ের খরব নিতে চায়। রায়না এসে সোজা শ্বাশুড়ির পাশে বসে।

শরিফ
কী হয়েছে আম্মা?

তহুরা
 আমি পারভেজকে নিয়ে খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছি।

রায়না
কি স্বপ্ন মা?

তহুরা
            বাবা, তুই সাবধান থাকিস। আল্লাহ তুমি আমান সন্তানদের রক্ষা করো খোদা। লা ইলাহা ইন্না          আন্তা সোবহানাকা ইন্নিকুন্তুম মিজান জোয়ালেমিন। পপি আমাকে একগ্লাস পানি দেতো।

পপি জগ থেকে পানি ঢেলে তহুরা বেগমকে দেয়। তহুরা বেগম বিসমিল্লাাহ বলে পানি মুখে দেয়।

শরিফ
ভয় পেওনা মা। স্বপ্নে তো মানুষ কতে কিছুই দেখে।

পারভেজ
            হ্যাঁ মা, স্বপ্ন দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া আমার তো কারও সাথে কোন ঝামেলা নেই। সততার সাথে ব্যবসা করি, অবৈধ ব্যবসা তো করি না।

তহুরা
        তা নয় বাবা, বিপদ কখন কোত্থেকে কিভাবে কার কাছে আসে তাতো বলে আসে না। তুমি সাবধানে চলাফেরা করো বাবা। সব সময় শরিফ অথবা মারুফকে তোমার সাথে রেখো।

পারভেজ
রাখেবো মা। এখন তুমি শুয়ে পড়ো, ঘুমাও।

তহুরা
ঠিক আছে তোমরা যাও।

পারভেজ, জেরিন, শরীফ ও শ্যামলী চঠে যায়। মারুফ স্ত্রীর জন্যে দাঁড়িয়ে থাকে। রায়না মারুফকে চলে যেতে বলে।

রায়না
তুমি যাও শুয়ে পড়ো আমি আসছি।

মারুফ চলে যায়।
তহুরা
তুমিও যাও বউমা।

রায়না
            যাবো, আপনি আগে ঘুমান তারপর আমি যাবো। আপনি শুয়ে পড়েন আম্মা। আমি আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই।

তহুরা শুয়ে পড়ে। রায়না মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।

তহুরা
        বউমা, তুমি মারুফকে বলো ও যেন ওর বড় ভাইকে সব সময় খেয়াল রাখে। আমি স্বপ্নটা খুব খারাপ দেখেছি মা। আমার এখনও বুকের মধ্যে ধরফর করছে।

রায়না
বলবো মা। আপনি চিন্তা করবেন না, ঘুমান।

তহুরা
        আমি অন্য মানুষের মতো প্রতি রাতে স্বপ্ন দেখিনা। দুই-পাঁচ বছর পর পর একটাস্বপ্ন দেখি।         বেশীর ভাগই খারাপ। আমার বাবা যখন মারা যায় তখনও আমি এরকম একটা স্বপ্ন দেখছিলাম।     এমনকি তোমার শ্বশুড় যেদিন মারা গেলো তার দশ বারোদিন আগেও আমি এমনই একটা খারাপ স্বপ্নই দেখছিলাম। আল্লাহর কাছে দোওয়া করো বউমা, আমার আজকের স্বপ্ন যেন সত্যি না হয়।

কথাগুলো বলতে বলতে তহুরা হাউমাও করে কেঁদে ওঠে। রায়না শ্বাশুড়িকে জড়িয়ে ধরে। চোখের পানি মুছিয়ে দেয়।


৩। ইনডোর-পারভেজ খানের বেডরুম। দিন

পারভেজ খান অফিসে যাওয়ার জন্যে রেডি হচ্ছে। জেরিন বিছানায় শুয়ে। ছালেহা এসে পারভেজ খানকে এক কাপ কফি দিয়ে যায়। পারভেজ কফির কাপ মুখে দিতেই তার মোবাইলটা বেজে ওঠে। সে মোবাইলটা হাতে নেয়। মোবাইল স্ক্রীনে শ্রাবন লেখা দেখে সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়। বিছানায় ঘুমন্ত জেরিনের দিকে তাকায়। ফোনটা রিসিভ করবে কি করবে না ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত রিসিভ করে ফিসফিস করে কথা বলে।

পারভেজ
হ্যাঁ. . . বলো. . . আমি এখনো বাসায়।

ওপাশ থেকে একটা নারী কন্ঠ শোনা যায়।

নারী কন্ঠ
ও. . আজ আমার হাজার পঞ্চাশেক টাকা দরকার।

পারভেজ
ওকে আমি একটু পরে তোমাকে ফোন দিচ্ছি।

ওপাশ থেকে ফোনটা রেখে দেয়। পারভেজ খান টের পায়। সে স্বস্থির নিশ্বাস নেয়। তারপর কফি খেতে খেতে জেরিনকে ডাকে।

পারভেজ
কি হলো তুমি উঠবে না? দশটা বাজতে চললো . . .

জেরিন
তুমি অফিসে যাও আমি পরে উঠবো। শোন, আজ একবার ব্যাংকে একটু খোঁজ নিও গাজিপুর প্রজেক্টের লোনের কি হলো?

পারভেজ
আচ্ছা নেবো।

জেরিন পাশ ফিরে শোয়।


৪। আউটডোর- পারভেজের বাড়ি ও রাস্তা। দিন।

গুলশান-বারিধারা এলাকার একটা অভিজাত ডুপ্লেক্স বাড়ি। বাড়ির সামনে বাগান। গেটে দারোয়ান। এই বাড়িটা পারভেজ সাহেবের। গ্যারেজ থেকে একটা গাড়ি বেরিয়ে আসে। গেট খুলে যায়। একটা বিদেশী কুকুর ভিতর থেকে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসে। গাড়িটা গেটের বাইরে বেরিয়ে যায়। কুকুরটা আবার চিৎকার করতে করতে বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায়। দারোয়ান গেট বন্ধ করে। গাড়ির পিছনের সিটে বসে পারভেজ। তার হাতে আজকের পত্রিকা। সে পত্রিকা নামিয়ে মোবাইলে ফোন করে। ডায়ালটোন শোনা যায়। ও পাশ থেকে একজন মহিলা ফোন রিসিভ করে। মহিলাকে দেখানো হবে না।

নারীকন্ঠ
হ্যালো ................?

পারভেজ
কেমন আছে তোমরা?

নারীকন্ঠ
ভালো আছি। তুমি ভালো?

পারভেজ
                    হ্যাঁ আমিও ভালো। তোমার টাকা পয়সা শেষ হওয়ারআগে থেকে বলো না কেন ? একেবারে শেষ মুহুর্তে বলা কি ঠিক?

নারীকন্ঠ
                ভেবেছিলাম তুমি হয়তো এর মধ্যে একদিন আসবে। তখন বলবো। তাতো আর এলেনা.....

পারভেজ
সময় সুযোগ হয়ে উঠছে না, তাই আসতে পারছি না।

নারীকন্ঠ
তারমানে খুব তাড়াতাড়ি আসার কোন সম্ভবনা নেই?

পারভেজ
দেখি পারলে একদিন চলে আসবো।

নারীকন্ঠ
আমার জন্যে তোমার সময়ের বড় অভাব ,তাই না?

পারভেজ
                    তা হবে কেন? সত্যি খুব ঝামেলা যাচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা ভাল না। বুঝতেই তো পারছো সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক মন্দা।

নারীকন্ঠ
বুঝতে পারছি।

পারভেজ
                    ঠিক আছে আমি তোমার একাউন্টে কিছুক্ষনের মধ্যেই টাকা জমা দিয়ে দিচ্ছি। ঘন্টা খানেক পরে শ্রাবনকে পাঠিয়ে দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিও।

নারীকন্ঠ
ঠিক আছে।

পারভেজ
রাখি তাহলে?

নারীকন্ঠ
আচ্ছা। ভাল থেকো।

পারভেজ
তুমিও ভাল থেকো।

পারভেজ ফোন রেখে আবার পত্রিকা হাতে তুলে নেয়। গাড়ি চলতে থাকে।


৫। ইনডোর- তহুরার রুম। দিন

তহুরা সকালের নাস্তা শেষ করে ওঠে। তার কাজের বুয়া পপি প্লেট বাটি গুছিয়ে নিতে থাকে। প্রবেশ করে বাড়ির মেজ বউ শ্যমলী। তার হাতে এক মগ কফি।

শ্যামলী
আম্মা আপনার কফি।

তহুরা শ্যামলীর কফি আনা দেখে অবাক হয়।

তহুরা
                রাখো। তুমি আবার আমার জন্যে কফি আনতে গেলে কেন? পপি গিয়ে নিয়ে আসতো।

শ্যামলী
কেন আম্মা আমি আপনার কফি আনলে কি কোন সমস্যা ?

তহুরা
                 না না, সমস্যা কি? তবে তোমরা তো সচারচর এসব কাজ করো না। তাছাড়া, আমার কাজকর্ম করা, দেখাশোনা করার জন্যতো পপিই আছেই। তোমরা কেন শুধু শুধু কষ্ট করবে ?

শ্যামলী
                এটা কিন্তু কোন কথা হলো না আম্মা, আপনার জন্যে এক কাপ কফি বানিয়ে আনবো এতে কষ্ট কিসের!

পপি উঠে দাঁড়ায়।

তহুরা
আচ্ছা কফি আনছো ভালো, বস।

শ্যামলী শাশুড়ির পাশে বসে। পপির দিকে তাকায়। পপি তখনো বের হচ্ছে না। শ্যামলীও কথা শুরু করতে পারে না। পপি বুঝতে পারে, সে বাইরে বের হয়ে যায়।

তহুরা
পারভেজ, শরীফ, মারুফ ওরা অফিসে চলে গেছে?

শ্যামলী
আপনার বড় ছেলে আর মেজছেলে অফিসে গেছে। কিন্তু মারুফ এখনও ঘুম থেকে ওঠেনি।

তহুরা
ও ..... তা ওরা দুইভাই এক সাথেই অফিসে গেছে তো?

শ্যামলী
                    না আম্মা, আপনার মেজ ছেলে তো অনেক আগে অফিসে চলে গেছে। বড় ভাইয়া গেলো একটু আগে।

তহুরা
                কেন শরীফ আগে গেলো কেন? গতরাতে না শরীফকে বললাম ওর ভাইয়ার সাথে সাথে থাকতে।

শ্যামলী
                না মানে আম্মা, নবনীকে ইউনিভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে তারপর অফিসে যাবে সেইজন্য আপনার মেজ ছেলে আগে বেরিয়েছে।

তহুরা
সেতো বুঝলাম। কিন্তু পারভেজ কেন একা একা গেলো....

তহুরা বেগম অস্থির হয়ে ওঠে।

শ্যামলী
                চিন্তা করবেন না, আম্মা । আরিয়ান ভাইয়ার সাথে গেছে। ভাইয়া অফিসে নেমে গেলে, আরিয়ান ইউনিভার্সিটিতে যাবে।

তহুরা
তো কথাটা এতক্ষণ পরে বলছো কেন?

শ্যামলী শ্বাশুড়ির ধমক খেয়ে অপ্রস্তত হয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষনেই সামলে নেয় নিজেকে।

শ্যামলী
আম্মা, গতরাতে কী স্বপ্ন দেখেছেন?

তহুরা
স্বপ্ন আমি কাউকে বলিনা।

শ্যামলী
আম্মা আপনাকে একটা কথা জানানো দরকার।

তহুরা
বল।

শ্যামলী
                    আপনি ভাইয়াকে নিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন তো? আমারও ভয় করছে। ভাইয়া একটা রিস্কি কাজে হাত দিয়েছেন?

পপি দরজা দিয়ে ঢুকতে যায়। শ্যামলীর কথা শুনে সে দরজার আড়ালে দাঁড়ায়। কেউ তাকে দেখতে পায় না।

তহুরা
কি রকম!

শ্যামলী
                    ভাইয়া গাজীপুরে জমি কিনে একটা প্লাষ্টিক কারখানা করতে যাচ্ছেন। ঐ জমি নিয়ে গন্ডোগোল আছে।

তহুরা
তোমাকে কে বললো?

শ্যামলী
            আপনার মেজো ছেলে। আরও বললো, ঐ জমি নাকি ভাইয়া ভাবীর নামে কিনছে।

তহুরা
তাই!

শ্যামলী
হ্যাঁ, তাইতো বললো আপনার ছেলে।

তহুরা
আচ্ছা, ঠিক আছে তুমি যাও।

শ্যামলী উঠে দাঁড়ায়। চলে যেতে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়।

শ্যামলী
আম্মা, ভাইয়াকে ঐ জমি আপনি কিনতে দেবেন না। ভাইয়া বিপদে পড়বে।

তহুরা
বললাম তো তুমি যাও।

শ্যামলী চলে যায়। পপি শ্যামলীর আগে দরজা থেকে সরে অন্য ঘরের দিকে চলে যায়। শ্যামলীও বেরিয়ে যায়। তহুরা চিন্তিত।


৬। ইনডোর- পারভেজের বেডরুম। দিন


জেরিন খান ঘুম থেকে উঠেছে। তার পরনে এখনও রাতের পোশাক। সে উঠে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে নিজের চেহারা দেখে। চুল আঁচড়ায়। পপি ভিতরে ঢোকে।

পপি
        বড় ভাবী, মেজো ভাবী আম্মার কাছে আপনার নামে মেলা বদনাম করতেছে।

জেরিন
আমার নামে বদনাম? কি নিয়ে ?

পপি
বড় ভাই বোলে আপনার নামে জমি কিনতেছে, সেই বদনাম।

জেরিন
আমার নামে জমি কিনছে. . . . মেজো জানলো কোত্থেকে?

পপি
তা জানি না ভাবী। ও. . না না জানি মেজো ভাই বোলে কয়ছে।

জেরিন
ও আচ্ছা। আর কি বললো?

পপি
আরো অনেক কথা কইলো। মনে নাই ভাবী।

জেরিন
আচ্ছা ঠিক আছে তুই যা - - -

পপি
                    ও ভাবী মনে পড়ছে। আরও কইলো ওই জমি কিনলে নাকি বড় ভাইয়ের ক্ষতি হইবো। জমি নিয়ে নাকি গন্ডোগোল আছে।

জেরিন
এটাও কি শরীফ মেজ বউকে বলছে।

পপি
তাতো জানি না ভাবী। আরও অনেক কথা কইছে. . . মনে রাখতে পারি নাই।

জেরিন
যা মনে রাখছিস এতেই চলবে। যা. . .

পপি
                    ভাবী আমার এক জোরা কানের দুল কিনে দেবেন। কান ছিদ্র করছিলাম বন্ধ হয়া যাইতেছে।

জেরিন
আচ্ছা কিনে দেবো যা. .

পপি
ভাবী আমি আপনার কাছে এসব কইছি আপনি কিন্তু কাউরে কয়েন না।

জেরিন
আচ্ছা বলবো না।

পপি বেরিয়ে যায়। জেরিন রাগে ফুসতে থাকে।


৭। ইনডোর- পারভেজের অফিস। দিন

পারভেজ সাহেব অফিসে ঢুকেই ইন্টারকমে ডায়াল করে।

পারভেজ
হ্যাঁ, শোন আমার রুমে একবার এসো তো।

ইন্টারকম রেখে পারভেজ সাহেব ড্রয়ার থেকে চেকবই বের করে এক লক্ষ টাকার একটা চেক লেখে। এ্যাকাউন্টস্ অফিসার আসে। সে চেকটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে সাদা কাগজে কিছু একটা লেখে কাগজটাও এগিয়ে দেয়।

পারভেজ
টাকাটা তুলে, এই এ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দেবে। এক্ষুনি।

এ্যা. অফিসার
জ্বী স্যার।

পারভেজ
কি বলেছি বুঝেছো তা?

এ্যা. অফিসার
জ্বী স্যার।

পারভেজ
                তাহলে যাও। দেখো, ভুল করে চেকটা আবার সরাসরি ওই এ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দিও না। ক্যাশ চেক দিয়েছি টাকা তুলে তারপর ওই এ্যাকাউন্টে জমা দেবে। ঠিক আছে?

এ্যা. অফিসার
জ্বী স্যার। স্লামুআলাইকুম।

এ্যাকাউন্টস্ অফিসার বেরিয়ে যায়। পারভেজ চেক বইটা রেখে একটা ফাইল টেনে নেয়।


৮। ইনডোর- শ্যামলীর ঘর। দিন

শ্যামলীর ঘরে শ্যামলী ও সালেহা। সালেহা ঘর পরিস্কার করছে। শ্যামলী টিভিতে হিন্দি সিরিয়াল দেখছে।

শ্যামলী
                    সালেহা ঘর পরিস্কার করে নবনীর জন্যে একটু পুডিং রান্না করে রাখিস। ও ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরে এসে খাবে।

সালেহা
                ভাবী, নবনী আপা তো বাসায় আসে কিছু খায় না। খালি খালি আপনি আমার দিয়ে প্রত্যেকদিন রান্না করান। আপনার মেয়ে তো প্রতিদিনই বাহির থেকে কি সব খায়া টায়া আসে।

শ্যামলী
কি সব খেয়ে আসে মানে?

সালেহা
মানে ওই যে বার্গার টার্গার কি সব খায়া আসে শুনি।

শ্যামলী
তো, বাইরে বার্গার খেয়ে এলে বাসায় খেতে দিবি না?

সালেহা
খাতি দেবো না ক্যান ? কলাম যে উনি বাড়ি আসে কিছু খায় না।

শ্যামলী
না খেলেও রান্না করে রাখবি। আরিয়ান পলিনের জন্য তো ঠিকই রান্না করে রাখিস। ওরা খায়?

সালেহা
ওরাও খায়না। ওদের জন্যি বড় ভাবী রান্নাও করতি কয় না।

বাইরে থেকে ডাকে জেরিন।

জেরিন
শ্যামলী ঘরে আছো?

শ্যামলী
জ্বি আপা আছি, আসেন।

জেরিন ভিতরে ঢোকে। সালেহা উঠে একপাশে গিয়ে দাঁড়ায়।

জেরিন
তোমার কোন কিছুতে কোন সমস্যা হচ্ছে নাতো শ্যামলী?

শ্যামলী
            না সমস্যা না হলে ভালো। শোন শ্যামলী, তোমার যদি কোন কিছু নিয়ে সমস্যা হয় অথবা                          আমাকে যদি কিছু বলার থাকে তাহলে আমাকে বলো........... অন্য কাউকে বলতে যেও না। সেটা তোমার জন্যে ভালহবে না। শরীফ এবং তোমার মেয়ে নবনীর জন্যেও না।
আন্ডারষ্টান্ড?

শ্যামলী জেরিনের কথা শুনে অবাক হয়ে যায়।

শ্যামলী
আমি আপনার কথা বুঝলাম না আপা!

জেরিন
না বুঝার মত কিছু বলিনি শ্যামলী।

জেরিন মেজাজ দেখিয়ে চলে যায়। শ্যামলী কথা খুঁজে পায় না।

সমাপ্ত



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন