সঠিক সময়ে সঠিক যত্ন
রচনা- টুকু মজনিউল
১। আউটডোর- শাহানাদের উঠান। দিন
শাহানার মা মুরগীর বাচ্চাদের খাবার দিচ্ছেন। শাহানার বাবা মুরগীর খামারের চারপাশের তারের বেড়ার ছিদ্র ঠিক করছে। শাহানা ও হাসি খুশি মনে গান গাইতে গাইতে কলেজ থেকে ফিরছে। তাদেরকে খুবই হাস্যোজ্জ্বল ও উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। শাহানার মা তাদেরকে দেখে।
মা
মেয়েরা এসেছো?
শাহানা
হ্যাঁ মা।
বাবা
বাহ; তোমাদের খুব খুশি-খুশি দেখাচ্ছে! কি ব্যাপার?
শাহানা
জানো বাবা, একজন কৃষক মাঠে কিভাবে কাজ করে ও ফসলের যত্ন নেয় সেটা আমরা এক সপ্তাহ দেখবো এবং শিখবো। আমাদের কৃষি বিজ্ঞান স্যার আমাদের এই কাজটা দিয়েছে।
বাবা
খুব ভালো। ঠিক আছে, তোমরা শিখে এসে আমাকেও শিখিও।
শাহানা
ঠিক আছে বাবা।
শাহানা মুচকি হেসে মিনিকে বারান্দা থেকে কোলে তুলে নিয়ে ভিতরে চলে যায়। হাসিও শাহানার সাথে সাথে যায়। শাহানার আচরন দেখে তার বাবা ও মা একে অন্যের দিকে তাকায় এবং হাসে।

২। আউটডোর- কৃষকের সবজির ক্ষেত। দিন

২। আউটডোর- কৃষকের সবজির ক্ষেত। দিন
একটি সবজির খেতে কৃষক পানি দিচ্ছে। শাহানা, হাসি, টুংলী এবং আরো দুইজন মেয়ে কৃষকের সবজি ক্ষেতে পানি দেয়া দেখছে। শাহানাদের সবার হাতেই নোটখাতা আছে। কৃষক ক্ষেতে পানি দিতে দিতে কথা বলে।
শাহানা
আসসালামাইকুম চাচা।
কৃষক
অলাইকুমআসসালাম, তোমরা আইছো, আমি তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করতেছিলাম।
মেয়েরা
জ্বি চাচা।
কৃষক
শোন, তোমাদের স্যার কইছেন, আমি কেমনে কৃষি কাজ করি, তা তোমরা দেখতে আসবা। এখন দেখ . . . . .
কৃষক
সব চারা গাছেই সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ পানি দিতে হইবো। পানি কম দিলে মাটি শুকায়ে চারা গাছগুলান মরে যাইবো, আর পানি বেশি দিলে গোড়া পচে যাইবো।
সে সামনের চারা গাছগুলোর পাতা আলতো করে ছুঁয়ে দেয়।
কৃষক
শোন, ভালো করে চারা গাছের যত্ন নিলে, ফলন ভালো হইবো। চলো, এখন আমরা টমেটো তুলতে যাই। কিন্তু সাবধান টমেটো তোলার সময় খালি এই রকম টমেটো তুলবা, ঠিক আছে।
কৃষক পাশের টমেটো ক্ষেতে আসে। শাহানারাও তার সাথে সাথে আসে। কৃষক শাহানাদেরকে দেখানোর জন্য ২/৩ টা পাকা টমেটো তোলে এবং দেখায়।
মেয়েরা
ঠিক আছে চাচা।
শাহানারা মাথা নেড়ে হাসি মুখে হ্যাঁ বলে টমেটো তুলতে যায়। তখনই তাদের পিছন দিকে হঠাৎ একটি শব্দ শোনা যায়, সবাই সেদিকে তাকিয়ে দেখে কৃষকের বাড়ি থেকে একটু দূরে একটা রুগ্ন মেয়ে পানি আনতে গিয়ে কলসটা ফেলে দিয়েছে। সেটা দেখে কৃষকের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে মেয়েটাকে একটা ধমক দেয়।
কৃষক
এই এই, কি করলি?
মেয়েটা ভয়ে জড়সড় হয়ে যায়। সে কলস নিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে যাওয়ার চেষ্টা করে। শাহানা কৃষকের দিকে তাকায়।
শাহানা
এটা কি আপনার মেয়ে?
কৃষকের মুখভঙ্গি সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায় এবং তাকে খুব বিরক্ত দেখায়।
কৃষক
হ্যাঁ। আমার জীবনটা শেষ করে দিলো।
হাসি
এই রকম করে বলছেন কেন?
কৃষক
আর বলো না, অসহ্য হয় গেছে! কিযে অসুখ বাধাইছে, ওর কাছে যাওন যায় না। বাচ্চা হওয়ার সময় বাচ্চাডাও মারা গেছে. . জামাই ঘর থ্যইকা বের করে দিছে . . বাদ দাও ওর কথা। চলো টমেটো তুলি।
শাহানা
আশ্চর্য্য!
টুংলী
এইটুকু মেয়ের বাচ্চা মারা গেছে! জামাই বাড়ি থেকে বেরও করে দিয়েছে! আবার সব সময় অসুখ থাকে?
শাহানা
হুম. . .
৩। আউটডোর- শাহানাদের বারান্দা। দিন
শাহানারা বাড়ির সবাই বারান্দায় বসে কাজ করছে। মা একটি ছোট টেবিলে বসে কিছু সদস্য ফরমে সিল মারছে। তার মাথার ওপরে একটি বাতি জ্বলতে দেখা যায়। শাহানার বাবা কিছু দড়ি পেচাচ্ছে। শাহানা মিনিকে কোলে নিয়ে বারান্দার কোনায় বসে আছে।
মা
হুম, তাহলে তো মেয়েটার অবস্থা খুব খারাপ শাহানা!
শাহানা
মা, তুমি যদি মেয়েটাকে দেখতে... সে আমার চাইতেও ছোট!
বাবা
মেয়েটার সাথে কথা বলে জানতে চেষ্টা কর, তার আসল সমস্যা কি?
মা
আমরা এ বিষয়টা নিয়ে তোমাদের ময়না খালা মানে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে আলাপ করতে পারি। সে হয়তো মেয়েটাকে সুস্থ করে তোলার ব্যাপারে পরার্মশ দিতে পারবে। আমি তাকে আসার জন্য আগামীকালই খবর দিব ।
শাহানা
হ্যাঁ মা, খুব ভালো হয় তাহলে।
৪। আউটডোর- কৃষকের সবজি বাগান। দিন
শাহানারা কৃষকের সবজি বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। টুংলী ও হাসি কৃষকের সাথে পাম্পের কাছে আছে। অন্য দুজন সহপাঠি একটা গাছ থেকে ফল পাড়ছে। একজন গাছের উপর থেকে ফল ছিড়ে দিচ্ছে, অন্যজন নিচ থেকে ধরছে। শাহানা বাড়ির কাছের সবজি ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার করছে। সে একটা শব্দ শোনে এবং তাকিয়ে দেখে সেই মেয়েটি জানালা দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। শাহানা তার দিকে তাকাতেই সে আড়ালে চলে যায়। মেয়েটি আবার ধীরে ধীরে জানালার দিকে মুখ ফেরায়। শাহানা জানালার কাছে এগিয়ে যায়।
শাহানা
শোনো! তুমি সবসময় মন খারাপ করে থাকো কেন?
শাহানা
আমাকে এক গ্লাস পানি দিবে?
মেয়ে তার দিকে তাকায় এবং ধীরে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে। শাহানা আবারও কৃষককে দেখে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। মেয়েটা কলস থেকে পানি ঢেলে শাহানার দিকে এগিয়ে দেয়। সাথে সাথে তার নাকে একটা বিকট গন্ধ আসে। কিন্তু শাহানা কিছু বলে না। সে পানির গ্লাস হাতে নিয়ে কথা বলে।
শাহানা
তোমার নাম কি?
হাফিজা
হাফিজা।
শাহানা
বয়স কত তোমার?
হাফিজা
চোদ্দ-পনের ।
শাহানা
তোমার বিয়ে হয়েছে কতদিন?
হাফিজা
দুই বছর আগে...
মেয়েটা এদিক ওদিক দেখে। তার চোখে মুখে ভয়, অস্বস্থি।
শাহানা
তোমার কি হয়েছে?
হাফিজা
কিছু না...
মেয়েটির উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে গেলে শাহানা দ্রুত ধরে ফেলে।
শাহানা
আমাকে বলো।
হাফিজা
বাচ্চা হওয়ার পর থেইকাই আমার অনেক সমস্যা হইতাছে . . . বাচ্চাটাও মারা গেছে। সব সময় পেসাব পায়খানা ঝরে। আটকাতে পারি না। আমার কাছে কেউ আইতেওচায় না! আমার গা দিয়া গন্ধ বের হয়। স্বামী আমারে বাপের বাড়ি পাঠায়ে দিচ্ছে। আর বাবা কয়, আমি তারে বিপদে ফেলছি। আমি তার কোন কাজেও আসি না!
মেয়েটা কাঁদে। শাহানা চিন্তিত।
৫। আউটডোর- শাহানাদের বাড়ী। দিন
শাহানাদের বাড়ী। শাহানা, হাসি, টুংলী গোল হয়ে বসে রিপোর্ট লিখেছে। পাশে বসে চা খাচ্ছে শাহানার মা ও স্বাস্থ্যকর্মী। তারা চিন্তিত।
ময়না খালা
তোমরা মেয়েটার সম্পর্কে যা বললে তাতে আমার মনে হচ্ছে মেয়েটার প্রসবজনিত ফিষ্টুলা হয়েছে।
শাহানা
প্রসবজনিত ফিষ্টুলা! এটা কি খালা?
ময়না খালা
বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্থ প্রসব প্রসবজনিত ফিষ্টুলার মূল কারণ। প্রসবের সময়ে বাচ্চার মাথা যদি প্রসবের রাস্তায় দীর্ঘক্ষন আটকে থাকে তা হলে মূত্রনালী, মূত্রথলি বা পায়ু পথের নরম অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচন ধরে, ফলস্বরূপ ছিদ্র হয়ে প্রসবজনিত ফিষ্টুলার সৃষ্টি হয়। ফলে অনবরত পায়খানা প্রস্রাব ঝরতে থাকে ও দুর্গন্ধ ছড়ায়।
শাহানা
এটা কেন হয় খালা?
ময়না খালা
বাচ্চা হওয়ার সময়, যদি প্রসব বাধাগ্রস্থ হয় ও ১২ ঘন্টার বেশি সময় প্রসব বেদনা থাকে এবং তখন যদি তাকে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে না নিয়ে প্রশিক্ষণ নেই এমন কোন দাই দিয়ে বাড়িতে প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়, তা হলে অনেক মেয়ের প্রসবজনিত ফিষ্টুলা হতে পারে। এর ফলে এমন কি বাচ্চাও অনেক সময় মারা যায়।
টুংলী
এ তো একটা মেয়ের জন্যে খুবই খারাপ অবস্থা!
ময়না খালা
এই জন্যে বাচ্চা হওয়ার সময় একজন ডাক্তার, মিডওয়াইফ অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন দাই থাকা খুব দরকার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দাই ছাড়া বাড়িতে প্রসব করানোর চেষ্টা করলে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার ঝুকি বেশী থাকে। আর মনে রেখো, কম বয়সী মায়েদের প্রসবজনিত ফিষ্টুলা হবার ঝুকি সবচেয়ে বেশি।
হাসি
কম বয়সী মায়েদের প্রসবজনিত ফিষ্টুলা হবার ঝুকি বেশি থাকে কেন খালা?
ময়না খালা
শোন, বিশ বছরের আগে মেয়েদের শরীর গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের জন্যে উপযুক্ত হয় না। তাই তাদের বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্থ প্রসবের সম্ভাবনা বেশী থাকে, পরিনতিতে প্রসবজনিত ফিষ্টুলা হয়।
মা
তার মানে, কম বয়সে বিয়ে হলে, কম বয়সে মা হবে. . . আর কম বয়সে মা হতে গেলে প্রসবজনিত ফিষ্টুলা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।
ময়না খালা
হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছো। শাহানা, আমি মেয়েটাকে একবার দেখতে চাই।
শাহানা
ঠিক আছে খালা।
৬। আউটডোর- কৃষকের সবজি বাগান। দিন
শাহানা, টুংলী, হাসি ও অন্য দুইজন মেয়ে টমেটোর ক্ষেতে টমেটো ছিঁড়ছে। হাসি হঠাৎ করে পর পর দুটো আধা পাকা টমেটো ছিঁড়ে ফেলে। সাথে সাথে কৃষক রাগ করে ওঠে।
কৃষক
না না ওই গুলাতো ঠিকমত পাকে নাই ! আরে তোমারে তো বলছি, আমি ওগুলা বীজ হিসেবে রাখব আর ওগুলা তুমি ঠিকমত পাকার আগেই ছিঁড়ে ফেললা?
হাসি
আমার ভুল হয়ে গেছে. . .
কৃষক
শোন শোন. . . ভালো বীজ না হলে যেমন ভালো চারা হয় না। তেমনি ভালো চারা না হলে ভালো ফসলও হয় না।
শাহানা, হাসি, টুংলী ও অন্যরা কৃষকের কথা শুনতে থাকে।
কৃষক
সবকিছুরই সঠিক বয়স হওয়ার দরকার আছে। বুঝলা।
শাহানা
ঠিক বলেছেন চাচা!
মেয়েরা ভাল ভাল সবজি সংগ্রহ করে। কৃষককে আনন্দিত দেখায়, মেয়েরা গল্প করে এবং আনন্দ করে। কেউ একজন ডাক দেয়। তারা দেখে তাদের শিক্ষক ও ময়না খালা আসছে।
শিক্ষক
কেমন আছেন?
কৃষক
ভালো আছি। স্বাস্থ্য আপা আপনিও আসছেন।
ময়না খালা
জ্বি ভাই, আমিও এসেছি। শুনলাম শাহানারা আপনার সাথে কাজ করছে তাই দেখতে এলাম।
শিক্ষক
আশা করি আমার মেয়েরা আপনার কোনো সমস্যা করেনি।
শাহানা ময়না খালার দিকে তাকিয়ে হাসে। ময়না খালাও মুচকি হাসে। তারা দৃষ্টি বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে কিছু বলে নেয়।
কৃষক
না, এরা আমাকে অনেক সাহায্য করছে।
শিক্ষক
তোমরা নিশ্চয় এই কয়েকদিন উনার কথা মন দিয়ে শুনেছ এবং অনেক কিছু শিখেছো?
মেয়েরা
(সবাই) জ্বি স্যার।
শাহানা
আমরা এই এক সপ্তাহে উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি স্যার, উনি আমাদের শিখিয়েছেন- শিশুর মতোই চারারও যত্ন নেয়া দরকার। আমরা আরও শিখেছি যে, সঠিক সময়ে ভাল বীজ বুনলে এবং যত্ন নিলে ভাল ফসল পাওয়া যায়।
শাহানার কথা শুনে কৃষক খুব অবাক হয়। সে শিক্ষক ও ময়না খালার দিকে তাকায়। তখনই হাফিজা বাড়ির বাইরে আসে এবং দরজায় দাঁড়িয়ে দেখে। ময়না খালা কথা বলতে থাকে।
ময়না খালা
যে রকম ২০ বছর বয়সের পরে সন্তান হলে বাচ্চাও স্বাস্থ্যবান হয়, মায়েরও বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে কোন সমস্যা হয় না।
সবাই মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি ভয় পায় ও অস্বস্তিবোধ করে। কৃষকও অস্বস্তিবোধ করে। সে মেয়ের দিকে তাকায়। মেয়েটি চলে যেতে চায়।
ময়না খালা
শোন, এই মেয়ে. . . চলে যেওনা! দাঁড়াও. . .
মেয়েটি বাড়ির ভিতরে চলে যায়।
শাহানা
উনি আমাদের এটাও শিখিয়েছেন যে, চারা যেন ভালো ভাবে বেড়ে উঠতে পারে তার জন্যে রোগগ্রস্থ ও দূর্বল চারাগুলোকে বিশেষ যত্ন নেওয়ার দরকার হয়।
ময়না খালা
হ্যাঁ. . তোমরা খুব ভাল শিখেছো। ভাই, আপনি আপনার ফসলের যত্ন ঠিকভাবেই করছেন। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আপনার মেয়ের যত্ন ঠিকভাবে নেওয়া হয় নি। বড় হওয়ার আগে কম বয়সে ওর বিয়ে দিয়েছেন।
সবাই কৃষকের দিকে তাকায়।
কৃষক
মানে!
ময়না খালা
শোনেন ভাই, আমি শাহানাদের কাছে শুনেছি আপনার মেয়ে বেশ অসুস্থ। আমি আপনার মেয়েকে একবার দেখতে চাই।
কৃষক ময়না খালার দিকে তাকায়। তার চোখে অশ্রু।
৭। আউটডোর- কৃষকের বাড়ি। দিন
কৃষকের বাড়ি। ময়না খালা মেয়েটাকে দেখে কৃষকের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কৃষক, শিক্ষক, মায়া ও তার বন্ধুরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। ময়না খালা চিন্তিত মুখে কৃষকের সামনে এসে দাঁড়ায়।
কৃষকের বাড়ি। ময়না খালা মেয়েটাকে দেখে কৃষকের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কৃষক, শিক্ষক, মায়া ও তার বন্ধুরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। ময়না খালা চিন্তিত মুখে কৃষকের সামনে এসে দাঁড়ায়।
ময়না খালা
উম্, আপনার মেয়েকে তো দেখলাম. . . ওর তো প্রসবজনিত ফিষ্টুলা হয়েছে।
কৃষক
ফিষ্টুলা!
ময়না খালা
হ্যাঁ, ভাই আপনার মেয়েকে ১৩/১৪ বছর বয়সে বিয়ে দিয়েছিলেন, পরের বছরই সে গর্ভবতী হয়েছে। তারপর সন্তান জন্মদানের সময় অনেকক্ষণ প্রসব বেদনা থাকলেও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে, প্রশিক্ষন নাই এমন দাই দিয়ে বাড়িতেই ডেলীভারি করিয়েছিলেন। এর ফলে বাচ্চাটা মারা গেছে আর আপনার মেয়ের ফিষ্টুলা হয়েছে।. .
কৃষক
আমি তো কিছুই বুঝতে পারি নাই আপা . . . . .
ময়না খালা
হুম, বুঝতে না পেরে আপনারা মেয়েটার প্রতি অবহেলা করছেন, ওর শরীরে গন্ধ বলে দূরে দূরে থাকছেন . . . কিন্তু এসবের জন্যে তো ও দায়ী না।
কৃষক
আমি বুঝবার পারছি আপা. . . সব ভুল আমার। কিন্তু কষ্ট পাইতেছে আমার মাইয়াডা। আহারে,.!!!
ময়না খালা
যাই হোক, ওকে এখন চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে নিতে হবে।
কৃষক
হাসপাতালে নিলে আমার মেয়ে সুস্থ হয়া যাবো আপা?
ময়না খালা
অবশ্যই। চিকিৎসায় প্রসবজনিত ফিষ্টুলা ভাল হয়ে যায়। এই যে, এখানে হাসপাতালের ঠিকানা লিখা আছে. . . আপনি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে এই কাগজটা দেখালে আপনার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেবে। সেখানে ওর চিকিৎসা হবে। দেখবেন আপনার মেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবে।
ময়না খালা কৃষকের হাতে কাগজ ধরিয়ে দেয়।
কৃষক
ঠিক আছে, আমি দুই একদিন এর মধ্যেই আমার মেয়েরে নিয়া হাসপাতালে যামু। তারপর মেয়েরে সুস্থ করে নিয়া বাড়ি ফিরব।
শাহানা
বাহ; হাফিজা এবার সুস্থ হয়ে যাবে. . . তাই না হাসি।
হাসি
হ্যাঁ. .
সবাই
হুররে. . . . .
সমাপ্ত
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন