কন্টিনিউ- ৮। ইনডোর- শ্যামলীর ঘর। দিন

শ্যামলী

আপনি আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন ভাবী?

জেরিন

তোমার সঙ্গে আমি খুব ভদ্রভাবে কথা বলছি। বলছি আমাকে তোমার কোনকিছু বলার থাকলে সেটা আমাকেই বলবে। ঠিক আছে?

শ্যামলী

জ্বী ঠিক আছে....... কিন্তু আজ হঠাৎ আপনার আমাদের সমস্যার কথা মনে হলো কেন?


হঠাৎ জেরিনের চোখ যায় সালেহার দিকে। সে সালেহাকে ধমক দেয়।

জেরিন

এই তুই এখানে দাঁড়িয়ে কি শুনছিস- যা এখান থেকে। (সালেহা ধমক খেয়ে বেরিয়ে যায়।) শ্যামলী আমি তোমার সাথে কিছু জরুরী কথা বলার জন্যে এসেছি। মন দিয়ে শুনবে।

শ্যামলী

বলেন।

জেরিন

তুমি আজ সকালে আম্মার ঘরে কেন গিয়েছিলে? আমার নামে কি কি বলে এসেছো। আর বলে তোমার লাভই বা কি হলো?


জেরিনের কথা শুনে শ্যামলী অবাক হয়ে যায়। তার মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। জেরিন শ্যামলীকে ধমক দেয়।)

জেরিন

কি উত্তর দিতে পারছো না, না? শোন শ্যামলী- এ বাড়িতে তুমি ছাড়াও আর একটা বউ আছে। তার কাছে কিন্তু আমার কখনো এভাবে যেতে হয় না। কিন্তু তোমার কাছে আমাকে মাঝে মধ্যেই আসতে হয়।

শ্যামলী

আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না ভাবী।

জেরিন

বুঝতে না পারার মত কোন কথা আমি বলিনি। অনেকদিন থেকেই মনে হচ্ছে তোমার এবং শরীফের এমন কোন সমস্যা হচ্ছে যা আমি বা তোমার ভাই বুঝতে পারছি না।

শ্যামলী

না না কোন সমস্যা নেই আপা। সমস্যা হলে আমি আপনাকে বলবো- ভাইয়াকেও বলবো।

জেরিন

ওকে তাই যেন হয়। শোন একটা কথা তোমাকে আবার স্বরণ করে দেওয়া দরকার। কথাটা হলো- আজকে এই ফ্যামিলীর যে বিরাট ব্যবসা-ধন-সম্পত্তি তার অনেক বড় একটা অংশ কিন্তু আমার বাবার। উত্তরাধিকার সুত্রে আমি যা পেয়েছি। সুতরাং এটা নিয়ে হিংসা করা তোমার সাজে না, শরিফের ও না।

শ্যামলী

এসব কেন বলছেন আপা?

জেরিন

এমনি। তোমাকে বলা দরকার মনে হলো তাই।

শ্যামলী

না কিন্তু কেন দরকার মনে হলো সেটাতো বলতে হবে?

জেরিন

সেটা তুমি আমার চেয়ে কম জানো না শ্যামলী বরং বেশী জানো। শোন আমার বা পারভেজের নামে আম্মার কাছে মিথ্যে বলে তোমার কোন লাভ হবে না। বরং না বললে লাভ হবে।

শ্যামলী

আমি আম্মার কাছে কি মিথ্যে বললাম?

জেরিন

কি মিথ্যে বলেছো তুমি জানো না?

শ্যামলী

না জানি না।

জেরিন

এটাও তুমি মিথ্যে বললো শ্যামলী। তুমি নিজেই কিন্তু জানো কি মিথ্যে তুমি আম্মার কাছে বলেছো। আশা করি ভবিষ্যতে তুমি আর কোনদিন এরকম কিছু করবে না।


জেরিন বেবিয়ে যায়। শ্যামলী উঠে দাঁড়ায়। তার চোখে মুখে অস্থিরতা।

৯।        ইনডোর- তহুরার রুম। দিন

তহুরার পাশে রায়না বসে আছে। মারুফ আসে।

মারুফ

মা আমাকে ডেকেছো?

তহুরা

হ্যাঁ, বস। তোর বড় ভইয়া গাজিপুরে প্লাষ্টিক কারখানা করছে এ ব্যাপারে তুই কিছু জানিস?

মারুফ

হ্যাঁ মা। কেন তুমি কিছু জানো না ?

তহুরা

অনেকদিন আগে পারভেজ একবার বলেছিলো। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে ঐ জমি নিয়ে কি কোন ঝামেলা আছে ?

মারুফ

আমি তো এরকম কিছু শুনিনি মা ? তুমি কি কিছু শুনেছো ?

তহুরা

না .........তবে পারভেজকে নিয়ে আমার খুব চিন্তা হচ্ছে। গতরাত থেকে আমার মন বলছে পারভেজের সামনে বড় বিপদ। তুই এক কাজ করবি - সবসময় পারভেজের সাথে সাথে থাকবি। ওকে চোখে চোখে রাখবি।

মারুফ

সেটা কিভাবে সম্ভব মা? আর আমি থাকি সারাদিন অফিসে। ভাইয়ার কত কাজ, কত কিছু নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়, কত জায়গায় যেতে হয় ভাইয়াকে।

তহুরা

আমি যা বলছি তাই করবি তুই। সারাদিন তোকে অফিসে থাকতে হবে না। পারভেজেরে সাথে সাথে থাকবি।

মারুফ

তুমি তাহলে ভাইয়াকে বলে দিও।

তহুরা

আচ্ছা বলে দেবো।

মারুফ

আমি যাই মা ?

তহুরা

আচ্ছা যা। পারভেজের সাথে সব সময় থাকিস কিন্তু।  

মারুফ

আচ্ছা মা

 

মারুফ ও রায়না বেরিয়ে যায়। ভিতরে ঢোকে মেজ বউ শ্যামলী।

শ্যামলী

আম্মা আমি নাকি আপনার কাছে কি সব মিথ্যে কথা বলে গেছি?

তহুরা

মিথ্যে কথা বলে গেছো মানে?

শ্যামলী

হ্যাঁ বড় ভাবী আমাকে এখন একগাদা কথা শুনিয়ে গেলো। আমি নাকি বড় ভাবী আর বড় ভাইয়া সম্পর্কে আপনার কাছে কি সব মিথ্যে কথা কথা বলেছি। আপনি বড় ভাবীকে কিছু বলেছেন?

তহুরা

না আমার সঙ্গে তার আজ এখনও দেখাই হয়নি। সে এখন কোথায়?

শ্যামলী

জানিনা।

তহুরা

আছে তুমি যাও . . .  আমি দেখি কি করা যায়।

শ্যামলী

বড় ভাবী আমাকে আর আপনার ছেলেকে অনেক আজে বাজে কথা বলেছে। উনার বাবার অনেক টাকা আমার বাবার নেই এসব নিয়েও কথা বলেছে।

তহুরা

বললাম তো আমি দেখবো তুমি যাও।


শ্যামলী বেরিয়ে যায়। ভিতরে ঢোকে আরিয়ান।

আরিয়ান

দাদী তুমি নাকি রাতে কি একটা খারাপ ড্রিম দেখছো ? ভয় পাচ্ছো তোমার বড় ছেলেকে কেউ কাবাব বানিয়ে খাচ্ছে।

তহুরা

এসব কি ধরনের কথা আরিয়ান! বাবার সম্পর্কে এরকম কথা বলতে তোমার খারাপ লাগে না। মুখে আটকায় না।

আরিয়ান

দাদী তুমি এত সিরিয়াস বিহ্যাভ করছো কেন। আমি এলাম তোমার সাথে একটু মজা করতে।

তহুরা

বাবাকে নিয়ে এভাবে মজা করতে হয় না দাদু।

আরিয়ান

ওকে আর বলবো না দাদী। প্রমিজ। এবার বলো তোমার ড্রিমটা কি রকম?

তহুরা

আচ্ছা তুই তোর বাবার সাথে যাসনি ?

আরিয়ান

বাবার সাথে আমি ..........? বাবার সাথে আমি কোথায় যাবো ?

তহুরা

কেন আমি যে শুনলাম তুই তোর বাবাকে অফিসে দিয়ে ইউনিভার্সিটিতে গেছিস।

আরিয়ান

দাদী . .  আমি এইমাত্র ঘুম থেকে উঠে নীচে নামলাম। আমি কিভাবে বাবার সাথে যাবো। বাবা অফিসে গেছে কত আগে।


তহুরা খান চিন্তিত হয়। সি কি বলবে বুঝতে পারে না।

আরিয়ান

এসব ড্রিম ট্রিম নিয়ে টেনশন করো না। ড্রিম ইজ ড্রিম - ইটস্ নাথিং - বাবাকে কাবাব বানানো অত সহজ না দাদী। যারা বাবাকে কাবাব বানাতে আসবে তারাই কাবাব হয়ে ফিরে যাবে।

তহুরা

তাই নাকি?

আরিয়ান

হ্যাঁ।

তহুরা

তাই যেন হয় দাদু।

আরিয়ান

অবশ্যই হবে। নো টেনশন দাদী .........


অরিয়ান বেরিয়ে যায়। তহুরা পপি ডাকে।

তহুরা

পপি. . . .

 

তহুরা খান চিন্তিত। তার মেজাজও কিছুটা খারাপ। পপি আসে।

তহুরা

মেজ বউ আমার রুমে এসেছিলো তুই বলেছিস বড় বউকে?

পপি

কই নাতো খালাম্মা। আমি তো বড় ভাবীরে কিছু বলি ন্ইা।

তহুরা

মিথ্যে বলবি না পপি।

পপি

আল্লাহর কসম আমি মিথ্যে বলি নাই।

তহুরা

আবার আল­ার কসম দিস! তোকে না বলেছি কথায় কথায় আল্লাহর কসম দিবি না। এর কথা ওর কাছে গিয়ে লাগাবি আর কথায় কথায় আল্লাহর কসম খাবি। শয়তান কোথাকার!

পপি

আমি বড় ভাবীকে কিচ্ছূ বলি নাই খালাম্মা।

তহুরা

তুই বলিস নাই তো- - - কথার কি পাখা গজালো যে, উড়ে উড়ে বড় বউয়ের কানে গেলো। শোন, এই অভ্যাস যদি না বদলাতে পারিস তাহলে আমি কিন্তু তোকে বাড়ি পাঠিয়ে দেবো।

পপি

তাই দেন খালাম্মা। সবাই খালি আমার সাতে খারাপ ব্যবহার করে। আমি যে এ বাড়ির আত্মীয়, কাজের লোক না সেটা কেউ মনে রাহে না। এই অপমানের চাইতে বাড়ি যায়া না খায়া মরাই ভালো।

 

পপি কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলে।

তহুরা

কথায় কথায় কাঁদবি না। যা এখান থেকে।


পপি চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে যায়। তহুরার চোখে মুখে বিরক্তি।

১০।      ইনডোর- পারভেজের বেডরুম।       দিন।


জেরিন খান বাইরে যাওয়ার জন্যে রেডি হচেচ্ছ। প্রবেশ করে পলিন।

পলিন

আম্মু আমাকে কিছু টাকা দাও।

জেরিন

কত ?

পলিন

দশ হাজার।


জেরিন খান তার আলমারী থেকে দশ হাজার টাকা বের করে পলিনের হাতে দেয়।

পলিন

আমি তোমার গাড়িটা নেয়ে গেলাম মা।

জেরিন

কেন তোমাদের গাড়ি কি হয়েছে?

পলিন

ড্রাইভার এখনো আসেনি। মোবাইলও বন্ধ পাচ্ছি।

জেরিন

তাহলে নিয়ে যাও কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে গাড়ি পাঠিয়ে দিও।

পলিন

সরি মা। আমি নবীনকে ইউনিভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যাবো।

জেরিন

কোথায় ?

পলিন

ঢাকার বাইরে। ফিরতে ফিরতে বিকেল, রাতও হতে পারে। এতগুলো টাকা নিলাম তো সেজন্যেই। কোন কিছু যদি পছন্দ হয়ে যায় কিনে আনবো।

জেরিন

না না তাহলে আমার গাড়ি নিও না। আমার জরুরী কাজ আছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই বাইরে বেরুতে হবে। তুমি বন্ধুদের গাড়িতে যাও।

পলিন

মা আমি অন্যের গাড়িতে যেতে পারবো না। তোমার গাড়িটা আমাকে দিতেই হবে। ড্রাইভার এলে আমার গাড়িটা নিয়ে তুমি বাইরে যেও।

জেরিন

না না আমার তো ড্রাইভার নিয়ে কোন সমস্যা নেই। আমি নিজেই না হয় ড্রাইভ করলাম বা আকাশ ড্রাইভ করলো। বাট তোমার গাড়িতে আমার চলবে না। তুমি এক কাজ কর আমার ড্রইভারকে নিয়ে যাও। কিন্তু আমার গাড়ি নিও না।


নবনী ভিতরে ঢোকে। তার হাতে ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার ব্যাগ।

নবনী

পলিন আপু ড্রাইভার এসেছে চলো

পলিন হাসে।
পলিন

তাই ড্রাইভার এসেছে? চল তাহলে। আম্মু তোমার গাড়িটা আর নেওয়া হলো না. .  বেঁচে গেলে আজকে। বাই. . . 


পলিন হাসতে হাসতে বেরিয়ে যায়। নবনী সাথে।

১১।      ইনডোর- ড্রইংরুম। দিন


পলিন ও নবনী জেরিনের রুম থেকে বেরিয়ে ড্রইংরুমে আসে।

পলিন

নবনী তুই ভাইয়ার সাথে যাস। ভাইয়া তোকে ইউনিভার্সিটিতে নামিয়ে দেবে।

নবনী

কেন?

পলিন

আমি আজ ইউনিভার্সিটিতে যাবো না। আমার অন্য কাজ আছে।

নবনী

ভাইয়া আমাকে নেবে না। তুমি আমাকে নামিয়ে দিয়ে যাও। তাছাড়া ভাইয়ার সাথে গেলে আমি প্রথম ক্লাসটা মিস করবো।

পলিন

ভাইয়া এক্ষুনি যাবে। আমি ভাইয়াকে বলেছি তোকে নিয়ে যাবে।


পলিন বেরিয়ে যায়। শ্যামলী আসে। তার চোখে মুখে এখনও অস্থিরতা।

শ্যামলী

কি হয়েছে নবনী?

নবনী

দেখোনা মা পলিন আপু আমাকে না নিয়ে একা একা চলে গেলো আর আমাকে বললো আরিয়ান ভাইয়ার সাথে যেতে। আরিয়ান ভাইয়ার সাথে গেলে তো আমি প্রথম ক্লাসটা মিস করবো।

শ্যামলী

এ বাড়িতে থাকলে হলে ওদের এসব যন্ত্রনা সহ্য করেই থাকতে হবে। আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোর বাবাকে ফোন করছি।

নবনী

থাক বাবাকে ফোন করতে হবে না। আমি আজ ক্লাসে যাবো না।

শ্যামলী

ক্লাসে যাবি না মানে? পড়ালেখা করতে হবে না? অশিক্ষিত হয়ে থাকবি? ওরা লেখাপড়া না করলেও কিছু আসে যায় না। ওর বাবা-মায়ের অনেক টাকা আছে। তোর আছে? যা রিক্সায় চড়ে ইউনিভার্সিটিতে যা।

নবনী

সেই ভালো আমি আজ থেকে রিক্সায় ইউনিভাসিটিতে যাবো। (নবনী দ্রুত হেঁটে ড্রইংরুম থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়। আরিয়ার ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্যে দোতলা থেকে নেমে আসে।)

আরিয়ান

মেজ চাচী নবনী কোথায়। তাড়াতাড়ি নবনীকে পাঠান আমি ওকে ইউনিভার্সিটিতে নামিয়ে দেবো।

শ্যামলী

নবনী ইউনিভার্সিটিতে চলে গেছে।

আরিয়ান

চলে গেছে! কার সাথে, কিভাবে?

শ্যামলী

জানিনা।


শ্যামলী চলে যায়। আরিয়ান অবাক।

১২।      আউটডোর- বাড়ির সামনে। দিন


তহুরা তার দোতলার রুমের বেলকুনিতে বসে আছে। তার হাতে আজকের পত্রিকা। সে হঠাৎ খেয়াল করে নবনী গেট দিয়ে হেঁটে বের হয়ে যাচ্ছে। তার কপাল কুঁচকে যায়। চিন্তা করে। নবনী একটা রিক্সা ডেকে উঠে যায়। সে বাসার ভিতরের দিকে তাকায়। শ্যামলী আসে।

তহুরা

নবনী একা একা রিক্সায় কোথায় গেলো বউমা?

শ্যামলী

ভার্সিটিতে।

তহুরা

পলিনের সাথে গেলো না কেন?

শ্যামলী

পলিন নবনীকে না নিয়েই চলে গেছে আম্মা।

তহুরা

কেন?

শ্যামলী

জানি না। পলিন তো প্রায়ই একা একা গাড়ি নিয়ে ভার্সিটিতে চলে যায়। আর নবনীকে রিক্সায় যেতে হয়।


ঠিক তখনি আরিয়ানের গাড়িটা গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে চলে যায়।

তহুরা

নবনীতো আরিয়ানের সাথে গেলেও পারতো? আরিয়ান নবনীকে ইউনিভার্সিতে নামিয়ে দিতো।

শ্যামলী

অত সোজা না আম্মা। পলিনই নবনীকে সাথে নেয় না আর আরিয়ান নেবে নবনীকে। নবনীর বাবার যেদিন গাড়ি কেনার সামর্থ্য হবে সেদিনই নবনী গাড়িতে চড়বে।

তহুরা

তোমার কথার অর্থ আমি মাঝে মাঝেই বুঝিনা মেজ বউমা। এটা তুমি কি বললে? এ বাড়ির একটা গাড়িও কি পারভেজের একার টাকায় কেনা?

শ্যামলী

উনাদের আচার আচরনে তো সে রকমই মনে হয়। বাবা মাও গাড়ি নিয়ে যেমন করে ছেলে মেয়েরাও তেমন করে।

হঠাৎ একটা দামী গাড়ি এসে থামে সামনের লনে। গাড়ি থেকে নামে আকাশ। সে গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে ঢুকতে যায়। তহুরার চোখ যায় সেদিকে। উপর থেকে আকাশকে ডাকে তহুরা। আকাশ ঘুরে তাকায় সে তহুরাকে দেখতে পায়। সালাম দেয়। তহুরা সালামের উত্তর না দিয়ে আবার কথা বলে।

তহুরা

শোন............... কোথায় যাচ্ছো?

আকাশ

ম্যাডামকে ডাকতে। গাড়িতে গ্যাস ছিলোনা ম্যাডাম গ্যাস ভরে আনতে বলেছিলেন।

তহুরা

গ্যাস ভরে আনতে তুমি গিয়েছিলে কেন? ড্রাইভার কোথায়?

আকাশ

জানি না।

তহুরা

জানো না নাকি ড্রাইভারকে তাড়িয়ে দিয়ে নিজেই ম্যাডামের ড্রাইভিংয়ের দায়িত্বও দিয়ে নিলে।

আকাশ

না না তা কেন হবে-ড্রাইভার তো আছে ।

তহুরা

শোন তুমি তোমার ম্যাডামের পি, এস, ঠিক বলেছি?

আকাশ

জ্বী।

তহুরা

তুমি যদি ম্যাডামের পি,এস হও তাহলে ম্যাডামের গাড়ি চালানো নিশ্চয় তোমার কাজ নয়। প্রতিদিন সকাল বিকাল বাসায় আসাও নিশ্চয় তোমার কাজের মধ্যে পড়ে না।

আকাশ

কিন্তু ম্যাডাম যে আসতে বলেন।

তহুরা

ঠিক আছে ম্যাডামকে নিয়ে যেতে এবং দিয়ে যেতে তোমাকে যদি এ বাড়িতে আসতেই হয় তাহলে তুমি এ পর্যন্ত এসে কাউকে দিয়ে ম্যাডামকে ডাকাবে। বাসার ভিতরে তুমি আর কখনোই প্রবেশ করবে না। তোমার ম্যাডামকে বলবে এটা আমার নির্দেশ।


শ্যামলী পিছনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো শুনে খুশি হয়।

আকাশ

জ্বী ।

তহুরা

মেজ বউমা যাও বড় বউমাকে বলো- তার গাড়ি এসেছে। (শ্যামলী চলে যায়। আকাশ গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তহুরা পত্রিকা তুলে নেয়। জেরিন বাসার লনে আসে।)

জেরিন

কি হলো তুমি এখানে দাঁড়িয়ে কি করছো। আমাকে ডাকবে না।

 
আকাশ কোন কথা বলে না। সে ড্রাইভিং সিটে বসে। জেরিন গাড়িতে ডঠে। আকাশ গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। তহুরা বেলকুনিতে বসে দেখে।

সমাপ্ত

 


Post a Comment

أحدث أقدم