আঠারোর পরে
রচনা- টুকু মজনিউল
১। আউটডোর- শাহানাদের বাড়ি। দিন
সকাল। ১৬ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া কিশোরী শাহানা তাদের উঠোনে কবুতরকে খাবার দিচ্ছে। বাবা বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছে। শাহানার বিড়াল মিনি একটা বল নিয়ে খেলছে। শাহানার মা বাগানে পানি দিচ্ছে। দূর থেকে নির্বাচনী প্রচারনার শব্দ যায়।
নির্বাচনী শ্লোগান
ভোট দিন. ভোট দিন, ফুটবল মার্কায় ভোট দিন
ফুটবল মার্কায় দিলে ভোট, শান্তি পাবে এলাকার লোক
শাহানা আনন্দিত হয়ে ওঠে এবং গেটের বাইরের দিকে দৌঁড়ে যেতে যেতে পাশের বাড়ির বন্ধু শিমুকে ডাকতে থাকে।
শাহানা
শিমু, এই শিমু .. . . তাড়াতাড়ি এদিকে আয়!
পাশের বাড়ি থেকে শাহানার থেকে বয়সে ছোট শিমু দৌঁড়ে এসে তার বাড়ির গেটে দাঁড়ায়। শিমুর চুল খোলা। সে তার ভেজা চুল শুকাচ্ছে।
শিমু
কি হয়েছে শাহানা আপু? এত ডাকাডাকি করছো কেন?
শাহানা
তাড়াতাড়ি আয়. . .
শিমু এসে শাহানার পাশে দাঁড়ায়। ততক্ষণে নির্বাচনী প্রচারণাকারীরা বেশ খানিকটা এগিয়ে এসেছে। তারা এখন গান গাইছে।
নির্বাচনী গান
শোনেন শোনেন শোনেন ভাই, শোনেন দিয়া মন
আমোদের মেম্বর প্রার্থী বড়ই আপনজন. . .
শিমু এবার বিষয়টা বুঝতে পারে। সে রাস্তার দিকে তাকায় এবং শাহানার কাছে এগিয়ে আসে।
শাহানা
ওই যে দেখ. . .
নির্বাচনী প্রচারনাকারীদের মিছিলটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়। সাথে তার ছেলে এবং অনুসারীরা শ্লোগান দিচ্ছে। শাহানা এবং শিমু উৎফুল্ল।
শিমু
আমরাও ভোট দিতে চাই!
প্রার্থী, তার ছেলে এবং তার অনুসারীরা শাহানাদের কথা শুনে হাসে।
প্রার্থী
তোমাদের বয়স তো মনে হয় ১৮ বছর হয় নাই। ১৮ বছর না হলে কেউ ভোট দিতে পারে না।
একজন অনুসারী
এবার না, দুই এক বছর পরে!
প্রার্থী
শোন, তোমাদের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত আমি তোমাদের ভোটের জন্য অপেক্ষা করবো।
লোকজন আবার হাসে। যখন তারা তাদের অতিক্রম করছিলো তখন প্রার্থীর ছেলে ফিরে তাকায় এবং শিমুকে দেখে হাসে। শিমু অস্বস্থি বোধ করে।

২। আউটডোর- স্কুলের রাস্তা। দিন
শাহানা এবং শিমু কলেজ থেকে ফিরছে। শিমু খুশি মনে নির্বাচনী গান গাইছে। গানটা শুনে শাহানা মুচকি হাসে।
শাহানা
গানটা সুন্দর! কিন্তু আমরা ভোট দিতে পারবো না!
শিমু
হু. . আমাদের বয়স এখনও আঠারো বছর হয় নাই। আমরা এখন জাতীয় পরিচয় পত্রও পাবো না, ভোটও দিতে পারবো না।
শাহানা
তারমানে আমরা এখনও ছোট। অথচ দেখ, আমাদের বিয়ে দেওয়ার জন্য বলে, আমরা নাকি বড় হয়ে গেছি বলে।
শিমু
হুম. . .
হঠাৎ একটা ভ্যানের টিং টিং শব্দ শোনা যায়। শাহানা ও শিমু দাঁড়ায়।
শাহানা
এটা পারুল না!
শিমু
হুম . . . এই শাহানা আপু, পারুলের তো মনে হয় বিয়ে হয়ে গেছে।
শাহানা
হ্যাঁ, তাই তো মনে হচ্ছে। বিয়ে হলে তো পারুল মনে হয় আর স্কুলে যেতে পারবে না।
শিমু
হ্যাঁ . . .তাই তো...
শাহানা ও শিমুর মন খারাপ হয়ে যায়।
৩। আউটডোর- শাহানাদের উঠান। দিন
মা বাগানে পানি দিচ্ছে।
মা
শাহানা তুই ফিরলি?
শাহানা
হ্যাঁ মা. . জানো ফেরার পথে কাকে দেখলাম।
মা
কাকে দেখলি?
শাহানা
পারুলকে মা। ওর মনে হয় বিয়ে হয়ে গেছে। তুমি জানো?
মা
হ্যাঁ, শুনেছি। দেখতে এসে নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ে আগে পারুলের বাবা-মা নাকি ছেলে সম্পর্কে কোন খোঁজ খবরও নেয় নি।
শাহানা
এটা কি ঠিক করলো মা?
মা
না। একদম ঠিক করেনি।
শাহানা
ইস! পারুলের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেলো।
মা
তাই হয়ত হবে, এত ছোট বয়সে বিয়ে হয়ে গেলে কি আর পড়াশোনা হয়?
শাহানা
আচ্ছা মা, ১৮ বছর বয়সের আগে আমরা জাতীয় পরিচয় পত্র পাই না, ভোটও দিতে পারি না। কিন্তু বাবা-মায়েরা আমাদের বিয়ে দেয় কিভাবে?
মা
আসলে সবাই তো বোঝে না মা। ১৮ বছর বয়সের আগে একটা মেয়ের বিয়ে দিলে, তাদের মানসিক ও শারিরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। আর অল্প বয়সী মেয়েদের সন্তান হওয়ার সময় অনেক ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়।
শাহানা
আর ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়ার কথা তো দেশের আইনেও বলা আছে মা।
শাহানার মা
হুম তা বলা আছে। কিন্তু সবাই তো আর মানে না মা।
শাহানা
মা, আমরা সবক্ষেত্রেই আইন মানি, কিন্ত বিয়ের ক্ষেত্রে মানি না কেন?
মা মন খারাপ করে এবং শাহানাকে জড়িয়ে ধরে।
৪। আউটডোর- রাস্তা। দিন
মতলব রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছে। তার মনে খুব আনন্দ।
মতলব
আর একটা বিয়ে ঠিক করলাম। একটা বিয়া ঠিক করলেই তো কত কত টাকা! তাছাড়া ভূতের ভয়ে তো আর ব্যবসা ছাইড়া দিতে পারি না।
মতলব হাঁটতে হাঁটতে চলে যায়।
৫। আউটডোর- শাহানের বারান্দা। দিন
শাহানাদের বাড়িতে ঢোকে মতলব ঘটক। বাবা তখন বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছে। মতলব শাহানার বাবাকে সালাম দেয়।
মতলব
আস্সালামুআলাইকুম. . .
বাবা
ওয়ালাইকুমআস্সালাম. . . . কি ব্যাপার মতলব, আমাদের গ্রামে নতুন কোন বিয়ে ঠিক করলে নাকি?
শাহানা ও তার মা তখন বারান্দায় বসে সবজী কাটছিলো।
শাহানা
মতলব ঘটক!
হাত কচলাতে কচলাতে কথা বলে।
মতলব
হ্যাঁ, আপনাদের পাশের বাড়ির মেয়ে শিমুর বিয়ে তো ওই মেম্বার প্রার্থীর ছেলের সাথে প্রায় ঠিক হয়া গেছে।
শাহানা ঘটকের দিকে ঘুরে তাকায়। তার কথা শুনে শাহানা হতাশ হয়।
শাহানা
শিমু!
মতলব
হু. . . চিন্তা করো না, তোমাকেও আমি ঠকাবো না! তোমার জন্যেও শহরের একজন বড় ব্যবসায়ীর ছেলে . . . .
শাহানার মা ঘটককে কথা শেষ করতে দেয় না। সে রেগে যায়।
মা
চুপ করো। তুমি জানো শাহানার বয়স কত? ঐ মেম্বার প্রার্থী কি জানে শিমুর বয়স কত?
মতলব
জানে জানে. . .. অবশ্যই জানে! ঐ মেম্বার প্রার্থী তার ছেলের জন্য অল্প বয়সী একজন সুন্দরী মাইয়া চায়!
মা
মতলব, শাহানা যখন ক্লাস সেভেনে পড়ে তখনও তুমি শাহানার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলে। আমরা সেদিনও শাহানার বিয়ে দেই নি। আজও দেবো না। ওকে আমরা শাহানাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করব। তারপর বিয়ে।
বাবা
মেয়ে আমার বোঝা নয় সম্পদ। তুমি এখন যাও তো মতলব. . .
মতলব
ঠিক আছে, ঠিক আছে. . .
মতলব ঘটক চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। যেতে যেতে বিড়বিড় করে।
মতলব
কিছু লোক আছে যারা আমার কদর বোঝে না।
ঘটককে বিরবির করতে করতে চলে যেতে দেখে মিনি দৌড়ে গিয়ে ঘটকের গা বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। ঘটক চিৎকার দিয়ে মিনিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
মতলব
ওরে বাবারে বিড়াল. . . . . বিড়াল আমার ভয় লাগে। বাবা. . ওরে বাবারে. . . .
মতলব ঘটক দৌড়ে পালায়। শাহানার চোখে মুখে উদ্বেগ।
৬। ইনডোর- শাহানার ঘর। দিন
স্বপ্ন দৃশ্য। ঘুমের মধ্যে শাহানা শিমুর কোলে একটি শিশু দেখতে পায়। তারপর আরও কয়েকটি শিশুকে সে পরপর শিমুর কোলে দেখতে পায়। এক একটি শিশু শিমুর কোলে বাড়তে থাকে আর ধীরে ধীরে শিমুর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে থাকে। তারপর আরও আরও শিমু শিমুর কোলে ও চারপাশে দেখতে পাওয়া যায়। শিমু সেই শিশদের মধ্যে ডুবে যেতে থাকে।
শিমু
শাহানা আপু, শাহানা আপু আমাকে বাঁচাও!
শাহানা শিমুকে হাত ধরে টেনে তুলে বাঁচাতে চায়। শিমু উঠতে চেষ্টা করে, কিন্তু সে উঠতে পারে না। শাহানার ঘুম ভেঙে যায়। সে বিছানায় উঠে বসে। কপালে ঘাম জমেছে তার। হাঁফাতে হাঁফাতে সেই ঘাম মোছে সে। তার পাশে শুয়ে থাকা বিড়ালটিও উঠে বসে। মিউ মিউ করে ডাকতে থাকে। সে বিড়ালটাকে কোলে তুলে নেয়।
শাহানা
মিনি, শিমুর জন্যে আমাদের কিছু একটা করতে হবে। এ বিয়ে বন্ধ করতেই হবে।
শাহানা এবার তার পড়ার টেবিল থেকে একটা খাতা টেনে নেয়। তখনও দূরে নির্বাচনী গানটা বাজছে। সে খাতা কলম নিয়ে কিছু একটা লিখার চেষ্টা করে।
৭। আউটডোর- শাহানাদের বারান্দা। দিন
সকাল। শাহানা, শাহানার বাবা ও মা বারান্দায় বসে কথা বলছে। তখন শিমুর মা ও শিমু আসে। শিমুর মা খুব খুশি। তার পিছনে মনমরা শিমু।
মাও শিমুর মা, এসো এসো. . . আমি তোমার কাছেই যাব ভাবছিলাম।
শিমুর মা
শিমুর তো খুব ভালো একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে? শিমুর যে এমন রাজ কপাল হবে, আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না আপা!
শাহানার মা
কিন্ত শিমুর বয়স তো মাত্র চোদ্দ পনের।
শিমুর মা
এটা কোন সমস্যা না। ভালো সম্বন্ধ তো সব সময় আসে না। যৌতুকও কম চাইছে তাই আমরা শিমুর বিয়ে দিয়ে দেবো ঠিক করেছি।
শিমু মায়ের কাছে কাকুতি মিনতি করে।
শিমু
মা, আমি এখন বিয়ে করতে চাই না! আমি পড়াশুনা করতে চাই।
শাহানার মা
শিমু তো পড়াশোনা করছে । ওর বিয়ের বয়স এখনও হয় নি। ও এখনও শিশু। ওর শরীর-মন কোনোটাই বিয়ের উপযুক্ত হয়নি! এই ভুল কর না ।
শিমুর মা হঠাৎ রেগে যায়।
শিমুর মা
ভুল! ওহ্ বুঝতে পেরেছি। শাহানার আগে শিমুর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বলে আপনার হিংসা হচ্ছে, তাই না?. .হুহ . . . আয় শিমু।
শিমুর মা শিমুকে হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে যেতে পিছন ফিরে তাকায়।
শিমুর মা
আমার মেয়ের বিয়ে হবে... খুব তাড়াতাড়িই হবে!
শিমু ভয়ে চোখ বড় করে পিছনে তাকায়। শাহানা, শাহানার বাবা ও মা খুব অবাক।
৮। আউটডোর- একটা গাছের নিচে। দিন
দিন। একটা গাছের নিচে। শাহানা, টুংলি ও মুকুল দাঁড়িয়ে কথা বলছে। তাদের সবার চোখে মুখেই টেনশান।
শাহানা
আমরা কি শিমুর বিয়েটা বন্ধ করতে পারবো না মুকুল?
মুকুল
কিছুই তো বুঝতে পারছি না।
শাহানা
মা গতকালও শিমুর মায়ের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলো। কিন্তুÍ খালাম্মা আমার মর সঙ্গে কথাই বলেনি।
টুংলি
আমাদের কিছু একটা করতেই হবে মুকুল।
শাহানা
আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে. . . হুম. . . এখন মাকে দিয়ে. .
৯। আউটডোর- শাহানাদের বারান্দা। দিন
শিমুর মায়ের ঘরের দরজায় শাহানার মা নক করে। শিমুর মা দরজা খোলে। দেখে দরজার বাইরে শাহানার মা দাঁড়িয়ে আছে। শাহানার মাকে দেখেই তার মুখে বিরক্তি ভাব ফুটে ওঠে।
শিমুর মাওহ. . . আপনি কি আমাকে নতুন কোনো জ্ঞান দিতে এসেছেন?
মা
না, না। আমরা তো প্রতিবেশী, তোমার মেয়ে শিমু, আমারও মেয়ের মত।
শিমুর মা বিরক্তি নিয়েই শাহানার মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু শাহানার মায়ের কথা শুনে আস্তে আস্তে তার চেহারা থেকে বিরক্তিভাব দূর হয়ে যেতে থাকে।
মা
শোন, এত ভালো প্রস্তাব যখন এসেছে, শিমুকে বিয়ে দিয়ে দেওয়াই উচিত।
শিমুর মায়ের মুখে এবার হাসি ফুটে ওঠে।
শিমুর মা
এই তো আপনি এবার বুঝেতে পেরেছেন।
মা
তুমি এক কাজ করো, আচ্ছা, তোমার মেয়েকে দেখতে আসবে কবে? শোন, ওরা তো তোমার
মেয়েকে পছন্দ করেই রেখেছে। আমরা ওই দিনই মেম্বরের ছেলের সাথে তোমার
মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেবো। তুমি গ্রামের দুই একজন মুরুব্বি আর এলাকার
মেরেজ রেজিষ্টারকেও দাওয়াত দিও। আমরা সবাই ঐ দিন খুব আনন্দ করে করবো আমরা।
শাহানার মায়ের কথা শুনে শিমুর মা খুশি হয়।
ইন্টারকাট-টু
শাহানা, টুংলি ও শিমু জানালা দিয়ে শিশুর সাথে কথা বলছে। শাহানা শিমুর হাতে একটা কাগজ দেয়।
শাহানা
নির্বাচনের সেই গানটা মনে আছে? ওই গানের সুরে আমরা সবাই মিলে একটা গান লিখেছি। এই যে, এটা শিখে নিস।
ইন্টারকাট-টু
শাহানার মা ও শিমুর মা কথা বলছে। শিমুর মা এখন শাহানার মায়ের উপর খুব খুশি।
শিমুর মা
আসেন, ভেতরে আসেন। শিমু. . . এই শিমু. . .
শাহানা, টুংলি ও শিমু এখন কথা বলছে। শিশুকে ডাকতে শোনে তারা।
শিমু
শাহানা আপু, মা ডাকছে
শাহানা
যা, শুধু আমরা যা বললাম মনে রাখিস!
শিমুর মা ঘরে প্রবেশ করতেই শাহানা ও টুংলি জানালা থেকে মাথা নামিয়ে নিয়ে চলে যায়।
১০। আউটডোর- শিমুদের বাড়ি। দিন
শিমুদের বাড়ি। মেয়ে দেখার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামের অন্য লোকেরাও উপস্থিত আছে। ভোট প্রার্থী এবং তার ছেলে ভালো চেয়ারে বসে আছে। পাশেই একজন ম্যারেজ রেজিষ্টারও রেজিষ্টার খাতা হাতে বসে আছে। শাহানা সবাইকে নাস্তা দিচ্ছে। শিমুকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে এবং এখন সে একটা চেয়ারে বসে আছে। তার মা শিমুর পিছনে দাঁড়ানো। তাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।
শাহানার মা
আমাদের মেয়ে শিমু কাজ-কর্মে খুব পটু। ভালো গানও গাইতে পারে. .
পাত্র ও পাত্রের বাবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
মেম্বার প্রার্থী
তাই নাকি?
টুংলি
একটা গান গেয়ে শুনা না শিমু।
শিমু লজ্জা পায়। মেম্বারও টুংলির সাথে উৎসাহ নিয়ে বলে ওঠে।
মেম্বার প্রার্থী
হ্যাঁ হ্যাঁ, গাও তো মা. . . গান আমি খুব পছন্দ করি. .
শিমু লজ্জা পায়। কি করবে বুঝতে পারে না। সে শাহানার দিকে তাকায়। শাহানা শিমুর হাত ধরে তার পাশে এসে বসে এবং গান গাইতে ইশারা করে। শাহানা শুরু করে অন্যরাও শাহানার সাথে গায় । গানের সুরটা নির্বাচনী গানের মত কিন্তু কথাগুলো ভিন্ন।
গান
শোন, শোন, শোন, মোদের কথা শোন. . . .
প্রথমে যখন ভোট প্রার্থী নির্বাচনী সুর শোনে, সে খুব আনন্দিত হয়। তারপর কথাগুলো শুনে বিব্রত হয়। শিমুর মা মর্মাহত হয়। গান শেষ হলে শিমুর মা খুব রাগান্বিত হয়। কিন্ত সে কিছু বলতে পারে না কারণ সবাই হাততালি ও বাহবা দিতে থাকে। মেম্বার নিজেকে বাচাঁতে মতলবের দিকে মেজাজ খারাপ করে তাকায়।
ম্যারেজ রেজিষ্টার
আচ্ছা মেয়ের বয়স কত?
শাহানা
ও তো ক্লাস এইটে পড়ে। চোদ্দ পনের হবে?
ম্যারেজ রেজিষ্টার
চোদ্দ পনের! এ বিয়ের বয়সই হয় নি। তাহলে ওর বিয়ের আয়োজন করছেন কেন?
মতলব
সমস্য নাই, ছেলের তো বিয়ের বয়স হইছে. . .
মতলব কথা শেষ করতে পারে না। তার আগেই মেরেজ রেজিষ্টার কথা বলে ওঠে। মতলব খুব অপ্রস্তুত হয়ে যায়।
ম্যারেজ রেজিষ্টার
না, শুধু ছেলের বিয়ের বয়স হলেই হবে না। মেয়েরও বিয়ের বয়স হতে হবে। আমি কম বয়সী ছেলে মেয়ের বিয়ে রেজিষ্ট্রি করি না।
মেম্বার
এইটা তুমি খুব বড় অন্যায় করছো ঘটক, শিমুর বয়স যে আঠারো হয় নাই, এইটা আমাকে তোমার আগে বলা উচিত ছিল।
মেম্বার
যাই হোক যাই হোক. . . . কি চমৎকার গান! এই ছোট মেয়ে দু’টো আমার কথাই বলেছে।
আইনেও তাই আছে। আসলে শিমুর মা আর আমি ঠিক করেছি যে, শিমুর
পড়াশোনা শেষ হলে তারপর আমার ছেলের সাথে শিমুর বিয়ে দেব। তার আগে না।
শিমুর মা মেম্বরের কথা প্রথমে বুঝতে পারে না। মেম্বর শিমুর মার দিকে তাকিয়ে।
শিমুর মা
এ্যাঁ!! কেন? ও হ্যা হ্যা...
মেম্বার
আর এই যে ঘটক, তুমি কিন্তু আর কোন শিশুবিয়ের ঘটকালী করবা না। ঠিক আছে? নইলে তোমার খবর আছে।
ঘটক
আচ্ছা আচ্ছা. . .
ঘটক মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ করেই কোত্থকে যেন মিনি এসে ঘটকের ঘাড়ে উঠে বসে। ঘটক ভয় পেয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালায়। সবাই হেসে ওঠে।)
সমাপ্ত
রচনা- টুকু মজনিউল
১। আউটডোর- শাহানাদের বাড়ি। দিন
সকাল। ১৬ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া কিশোরী শাহানা তাদের উঠোনে কবুতরকে খাবার দিচ্ছে। বাবা বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছে। শাহানার বিড়াল মিনি একটা বল নিয়ে খেলছে। শাহানার মা বাগানে পানি দিচ্ছে। দূর থেকে নির্বাচনী প্রচারনার শব্দ যায়।
নির্বাচনী শ্লোগান
ভোট দিন. ভোট দিন, ফুটবল মার্কায় ভোট দিন
ফুটবল মার্কায় দিলে ভোট, শান্তি পাবে এলাকার লোক
শাহানা আনন্দিত হয়ে ওঠে এবং গেটের বাইরের দিকে দৌঁড়ে যেতে যেতে পাশের বাড়ির বন্ধু শিমুকে ডাকতে থাকে।
শাহানা
শিমু, এই শিমু .. . . তাড়াতাড়ি এদিকে আয়!
পাশের বাড়ি থেকে শাহানার থেকে বয়সে ছোট শিমু দৌঁড়ে এসে তার বাড়ির গেটে দাঁড়ায়। শিমুর চুল খোলা। সে তার ভেজা চুল শুকাচ্ছে।
শিমু
কি হয়েছে শাহানা আপু? এত ডাকাডাকি করছো কেন?
তাড়াতাড়ি আয়. . .
শিমু এসে শাহানার পাশে দাঁড়ায়। ততক্ষণে নির্বাচনী প্রচারণাকারীরা বেশ খানিকটা এগিয়ে এসেছে। তারা এখন গান গাইছে।
শোনেন শোনেন শোনেন ভাই, শোনেন দিয়া মন
আমোদের মেম্বর প্রার্থী বড়ই আপনজন. . .
শিমু এবার বিষয়টা বুঝতে পারে। সে রাস্তার দিকে তাকায় এবং শাহানার কাছে এগিয়ে আসে।
শাহানা
ওই যে দেখ. . .
নির্বাচনী প্রচারনাকারীদের মিছিলটা এগিয়ে আসতে দেখা যায়। সাথে তার ছেলে এবং অনুসারীরা শ্লোগান দিচ্ছে। শাহানা এবং শিমু উৎফুল্ল।
আমরাও ভোট দিতে চাই!
প্রার্থী, তার ছেলে এবং তার অনুসারীরা শাহানাদের কথা শুনে হাসে।
প্রার্থী
তোমাদের বয়স তো মনে হয় ১৮ বছর হয় নাই। ১৮ বছর না হলে কেউ ভোট দিতে পারে না।
একজন অনুসারী
এবার না, দুই এক বছর পরে!
প্রার্থী
শোন, তোমাদের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত আমি তোমাদের ভোটের জন্য অপেক্ষা করবো।
লোকজন আবার হাসে। যখন তারা তাদের অতিক্রম করছিলো তখন প্রার্থীর ছেলে ফিরে তাকায় এবং শিমুকে দেখে হাসে। শিমু অস্বস্থি বোধ করে।

২। আউটডোর- স্কুলের রাস্তা। দিন
শাহানা এবং শিমু কলেজ থেকে ফিরছে। শিমু খুশি মনে নির্বাচনী গান গাইছে। গানটা শুনে শাহানা মুচকি হাসে।
শাহানা
গানটা সুন্দর! কিন্তু আমরা ভোট দিতে পারবো না!
শিমু
হু. . আমাদের বয়স এখনও আঠারো বছর হয় নাই। আমরা এখন জাতীয় পরিচয় পত্রও পাবো না, ভোটও দিতে পারবো না।
শাহানা
তারমানে আমরা এখনও ছোট। অথচ দেখ, আমাদের বিয়ে দেওয়ার জন্য বলে, আমরা নাকি বড় হয়ে গেছি বলে।
শিমু
হুম. . .
হঠাৎ একটা ভ্যানের টিং টিং শব্দ শোনা যায়। শাহানা ও শিমু দাঁড়ায়।
শাহানা
এটা পারুল না!
শিমু
হুম . . . এই শাহানা আপু, পারুলের তো মনে হয় বিয়ে হয়ে গেছে।
শাহানা
হ্যাঁ, তাই তো মনে হচ্ছে। বিয়ে হলে তো পারুল মনে হয় আর স্কুলে যেতে পারবে না।
শিমু
হ্যাঁ . . .তাই তো...
শাহানা ও শিমুর মন খারাপ হয়ে যায়।
৩। আউটডোর- শাহানাদের উঠান। দিন
মা বাগানে পানি দিচ্ছে।
শাহানা তুই ফিরলি?
শাহানা
হ্যাঁ মা. . জানো ফেরার পথে কাকে দেখলাম।
মা
কাকে দেখলি?
শাহানা
পারুলকে মা। ওর মনে হয় বিয়ে হয়ে গেছে। তুমি জানো?
মা
হ্যাঁ, শুনেছি। দেখতে এসে নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ে আগে পারুলের বাবা-মা নাকি ছেলে সম্পর্কে কোন খোঁজ খবরও নেয় নি।
শাহানা
এটা কি ঠিক করলো মা?
মা
না। একদম ঠিক করেনি।
শাহানা
ইস! পারুলের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেলো।
মা
তাই হয়ত হবে, এত ছোট বয়সে বিয়ে হয়ে গেলে কি আর পড়াশোনা হয়?
শাহানা
আচ্ছা মা, ১৮ বছর বয়সের আগে আমরা জাতীয় পরিচয় পত্র পাই না, ভোটও দিতে পারি না। কিন্তু বাবা-মায়েরা আমাদের বিয়ে দেয় কিভাবে?
মা
আসলে সবাই তো বোঝে না মা। ১৮ বছর বয়সের আগে একটা মেয়ের বিয়ে দিলে, তাদের
শাহানা
আর ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়ার কথা তো দেশের আইনেও বলা আছে মা।
শাহানার মা
হুম তা বলা আছে। কিন্তু সবাই তো আর মানে না মা।
শাহানা
মা, আমরা সবক্ষেত্রেই আইন মানি, কিন্ত বিয়ের ক্ষেত্রে মানি না কেন?
মা মন খারাপ করে এবং শাহানাকে জড়িয়ে ধরে।
৪। আউটডোর- রাস্তা। দিন
মতলব রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছে। তার মনে খুব আনন্দ।
আর একটা বিয়ে ঠিক করলাম। একটা বিয়া ঠিক করলেই তো কত কত টাকা! তাছাড়া ভূতের ভয়ে তো আর ব্যবসা ছাইড়া দিতে পারি না।
মতলব হাঁটতে হাঁটতে চলে যায়।
৫। আউটডোর- শাহানের বারান্দা। দিন
শাহানাদের বাড়িতে ঢোকে মতলব ঘটক। বাবা তখন বারান্দায় বসে পত্রিকা পড়ছে। মতলব শাহানার বাবাকে সালাম দেয়।
আস্সালামুআলাইকুম. . .
বাবা
ওয়ালাইকুমআস্সালাম. . . . কি ব্যাপার মতলব, আমাদের গ্রামে নতুন কোন বিয়ে ঠিক করলে নাকি?
শাহানা ও তার মা তখন বারান্দায় বসে সবজী কাটছিলো।
শাহানা
মতলব ঘটক!
হাত কচলাতে কচলাতে কথা বলে।
মতলব
হ্যাঁ, আপনাদের পাশের বাড়ির মেয়ে শিমুর বিয়ে তো ওই মেম্বার প্রার্থীর ছেলের সাথে প্রায় ঠিক হয়া গেছে।
শাহানা ঘটকের দিকে ঘুরে তাকায়। তার কথা শুনে শাহানা হতাশ হয়।
শাহানা
শিমু!
মতলব
হু. . . চিন্তা করো না, তোমাকেও আমি ঠকাবো না! তোমার জন্যেও শহরের একজন বড় ব্যবসায়ীর ছেলে . . . .
শাহানার মা ঘটককে কথা শেষ করতে দেয় না। সে রেগে যায়।
মা
চুপ করো। তুমি জানো শাহানার বয়স কত? ঐ মেম্বার প্রার্থী কি জানে শিমুর বয়স কত?
মতলব
জানে জানে. . .. অবশ্যই জানে! ঐ মেম্বার প্রার্থী তার ছেলের জন্য অল্প বয়সী একজন সুন্দরী মাইয়া চায়!
মা
মতলব, শাহানা যখন ক্লাস সেভেনে পড়ে তখনও তুমি শাহানার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলে। আমরা সেদিনও শাহানার বিয়ে দেই নি। আজও দেবো না। ওকে আমরা শাহানাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করব। তারপর বিয়ে।
বাবা
মেয়ে আমার বোঝা নয় সম্পদ। তুমি এখন যাও তো মতলব. . .
মতলব
ঠিক আছে, ঠিক আছে. . .
মতলব ঘটক চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। যেতে যেতে বিড়বিড় করে।
মতলব
কিছু লোক আছে যারা আমার কদর বোঝে না।
ঘটককে বিরবির করতে করতে চলে যেতে দেখে মিনি দৌড়ে গিয়ে ঘটকের গা বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। ঘটক চিৎকার দিয়ে মিনিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
মতলব
ওরে বাবারে বিড়াল. . . . . বিড়াল আমার ভয় লাগে। বাবা. . ওরে বাবারে. . . .
মতলব ঘটক দৌড়ে পালায়। শাহানার চোখে মুখে উদ্বেগ।
৬। ইনডোর- শাহানার ঘর। দিন
স্বপ্ন দৃশ্য। ঘুমের মধ্যে শাহানা শিমুর কোলে একটি শিশু দেখতে পায়। তারপর আরও কয়েকটি শিশুকে সে পরপর শিমুর কোলে দেখতে পায়। এক একটি শিশু শিমুর কোলে বাড়তে থাকে আর ধীরে ধীরে শিমুর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে থাকে। তারপর আরও আরও শিমু শিমুর কোলে ও চারপাশে দেখতে পাওয়া যায়। শিমু সেই শিশদের মধ্যে ডুবে যেতে থাকে।
শিমু
শাহানা আপু, শাহানা আপু আমাকে বাঁচাও!
শাহানা শিমুকে হাত ধরে টেনে তুলে বাঁচাতে চায়। শিমু উঠতে চেষ্টা করে, কিন্তু সে উঠতে পারে না। শাহানার ঘুম ভেঙে যায়। সে বিছানায় উঠে বসে। কপালে ঘাম জমেছে তার। হাঁফাতে হাঁফাতে সেই ঘাম মোছে সে। তার পাশে শুয়ে থাকা বিড়ালটিও উঠে বসে। মিউ মিউ করে ডাকতে থাকে। সে বিড়ালটাকে কোলে তুলে নেয়।
শাহানা
মিনি, শিমুর জন্যে আমাদের কিছু একটা করতে হবে। এ বিয়ে বন্ধ করতেই হবে।
শাহানা এবার তার পড়ার টেবিল থেকে একটা খাতা টেনে নেয়। তখনও দূরে নির্বাচনী গানটা বাজছে। সে খাতা কলম নিয়ে কিছু একটা লিখার চেষ্টা করে।
৭। আউটডোর- শাহানাদের বারান্দা। দিন
সকাল। শাহানা, শাহানার বাবা ও মা বারান্দায় বসে কথা বলছে। তখন শিমুর মা ও শিমু আসে। শিমুর মা খুব খুশি। তার পিছনে মনমরা শিমু।
মা
ও শিমুর মা, এসো এসো. . . আমি তোমার কাছেই যাব ভাবছিলাম। শিমুর মা
শিমুর তো খুব ভালো একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে? শিমুর যে এমন রাজ কপাল হবে, আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না আপা!
শাহানার মা
কিন্ত শিমুর বয়স তো মাত্র চোদ্দ পনের।
শিমুর মা
এটা কোন সমস্যা না। ভালো সম্বন্ধ তো সব সময় আসে না। যৌতুকও কম চাইছে তাই আমরা শিমুর বিয়ে দিয়ে দেবো ঠিক করেছি।
শিমু মায়ের কাছে কাকুতি মিনতি করে।
শিমু
মা, আমি এখন বিয়ে করতে চাই না! আমি পড়াশুনা করতে চাই।
শাহানার মা
শিমু তো পড়াশোনা করছে । ওর বিয়ের বয়স এখনও হয় নি। ও এখনও শিশু। ওর শরীর-মন কোনোটাই বিয়ের উপযুক্ত হয়নি! এই ভুল কর না ।
শিমুর মা হঠাৎ রেগে যায়।
শিমুর মা
ভুল! ওহ্ বুঝতে পেরেছি। শাহানার আগে শিমুর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে বলে আপনার হিংসা হচ্ছে, তাই না?. .হুহ . . . আয় শিমু।
শিমুর মা শিমুকে হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে যেতে পিছন ফিরে তাকায়।
শিমুর মা
আমার মেয়ের বিয়ে হবে... খুব তাড়াতাড়িই হবে!
শিমু ভয়ে চোখ বড় করে পিছনে তাকায়। শাহানা, শাহানার বাবা ও মা খুব অবাক।
৮। আউটডোর- একটা গাছের নিচে। দিন
দিন। একটা গাছের নিচে। শাহানা, টুংলি ও মুকুল দাঁড়িয়ে কথা বলছে। তাদের সবার চোখে মুখেই টেনশান।
আমরা কি শিমুর বিয়েটা বন্ধ করতে পারবো না মুকুল?
মুকুল
কিছুই তো বুঝতে পারছি না।
শাহানা
মা গতকালও শিমুর মায়ের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলো। কিন্তুÍ খালাম্মা আমার মর সঙ্গে কথাই বলেনি।
টুংলি
আমাদের কিছু একটা করতেই হবে মুকুল।
শাহানা
আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে. . . হুম. . . এখন মাকে দিয়ে. .
৯। আউটডোর- শাহানাদের বারান্দা। দিন
শিমুর মায়ের ঘরের দরজায় শাহানার মা নক করে। শিমুর মা দরজা খোলে। দেখে দরজার বাইরে শাহানার মা দাঁড়িয়ে আছে। শাহানার মাকে দেখেই তার মুখে বিরক্তি ভাব ফুটে ওঠে।
শিমুর মা
ওহ. . . আপনি কি আমাকে নতুন কোনো জ্ঞান দিতে এসেছেন? মা
না, না। আমরা তো প্রতিবেশী, তোমার মেয়ে শিমু, আমারও মেয়ের মত।
শিমুর মা বিরক্তি নিয়েই শাহানার মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু শাহানার মায়ের কথা শুনে আস্তে আস্তে তার চেহারা থেকে বিরক্তিভাব দূর হয়ে যেতে থাকে।
মা
শোন, এত ভালো প্রস্তাব যখন এসেছে, শিমুকে বিয়ে দিয়ে দেওয়াই উচিত।
শিমুর মায়ের মুখে এবার হাসি ফুটে ওঠে।
শিমুর মা
এই তো আপনি এবার বুঝেতে পেরেছেন।
মা
তুমি এক কাজ করো, আচ্ছা, তোমার মেয়েকে দেখতে আসবে কবে? শোন, ওরা তো তোমার
মেয়েকে পছন্দ করেই রেখেছে। আমরা ওই দিনই মেম্বরের ছেলের সাথে তোমার
মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেবো। তুমি গ্রামের দুই একজন মুরুব্বি আর এলাকার
মেরেজ রেজিষ্টারকেও দাওয়াত দিও। আমরা সবাই ঐ দিন খুব আনন্দ করে করবো আমরা।
শাহানার মায়ের কথা শুনে শিমুর মা খুশি হয়।
ইন্টারকাট-টু
শাহানা, টুংলি ও শিমু জানালা দিয়ে শিশুর সাথে কথা বলছে। শাহানা শিমুর হাতে একটা কাগজ দেয়।
শাহানা
নির্বাচনের সেই গানটা মনে আছে? ওই গানের সুরে আমরা সবাই মিলে একটা গান লিখেছি। এই যে, এটা শিখে নিস।
ইন্টারকাট-টু
শাহানার মা ও শিমুর মা কথা বলছে। শিমুর মা এখন শাহানার মায়ের উপর খুব খুশি।
আসেন, ভেতরে আসেন। শিমু. . . এই শিমু. . .
শাহানা, টুংলি ও শিমু এখন কথা বলছে। শিশুকে ডাকতে শোনে তারা।
শিমু
শাহানা আপু, মা ডাকছে
শাহানা
যা, শুধু আমরা যা বললাম মনে রাখিস!
শিমুর মা ঘরে প্রবেশ করতেই শাহানা ও টুংলি জানালা থেকে মাথা নামিয়ে নিয়ে চলে যায়।
১০। আউটডোর- শিমুদের বাড়ি। দিন
শিমুদের বাড়ি। মেয়ে দেখার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। গ্রামের অন্য লোকেরাও উপস্থিত আছে। ভোট প্রার্থী এবং তার ছেলে ভালো চেয়ারে বসে আছে। পাশেই একজন ম্যারেজ রেজিষ্টারও রেজিষ্টার খাতা হাতে বসে আছে। শাহানা সবাইকে নাস্তা দিচ্ছে। শিমুকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে এবং এখন সে একটা চেয়ারে বসে আছে। তার মা শিমুর পিছনে দাঁড়ানো। তাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।
আমাদের মেয়ে শিমু কাজ-কর্মে খুব পটু। ভালো গানও গাইতে পারে. .
পাত্র ও পাত্রের বাবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
মেম্বার প্রার্থী
তাই নাকি?
টুংলি
একটা গান গেয়ে শুনা না শিমু।
শিমু লজ্জা পায়। মেম্বারও টুংলির সাথে উৎসাহ নিয়ে বলে ওঠে।
মেম্বার প্রার্থী
হ্যাঁ হ্যাঁ, গাও তো মা. . . গান আমি খুব পছন্দ করি. .
শিমু লজ্জা পায়। কি করবে বুঝতে পারে না। সে শাহানার দিকে তাকায়। শাহানা শিমুর হাত ধরে তার পাশে এসে বসে এবং গান গাইতে ইশারা করে। শাহানা শুরু করে অন্যরাও শাহানার সাথে গায় । গানের সুরটা নির্বাচনী গানের মত কিন্তু কথাগুলো ভিন্ন।
গান
শোন, শোন, শোন, মোদের কথা শোন. . . .
প্রথমে যখন ভোট প্রার্থী নির্বাচনী সুর শোনে, সে খুব আনন্দিত হয়। তারপর কথাগুলো শুনে বিব্রত হয়। শিমুর মা মর্মাহত হয়। গান শেষ হলে শিমুর মা খুব রাগান্বিত হয়। কিন্ত সে কিছু বলতে পারে না কারণ সবাই হাততালি ও বাহবা দিতে থাকে। মেম্বার নিজেকে বাচাঁতে মতলবের দিকে মেজাজ খারাপ করে তাকায়।
ম্যারেজ রেজিষ্টার
আচ্ছা মেয়ের বয়স কত?
শাহানা
ও তো ক্লাস এইটে পড়ে। চোদ্দ পনের হবে?
ম্যারেজ রেজিষ্টার
চোদ্দ পনের! এ বিয়ের বয়সই হয় নি। তাহলে ওর বিয়ের আয়োজন করছেন কেন?
মতলব
সমস্য নাই, ছেলের তো বিয়ের বয়স হইছে. . .
মতলব কথা শেষ করতে পারে না। তার আগেই মেরেজ রেজিষ্টার কথা বলে ওঠে। মতলব খুব অপ্রস্তুত হয়ে যায়।
ম্যারেজ রেজিষ্টার
না, শুধু ছেলের বিয়ের বয়স হলেই হবে না। মেয়েরও বিয়ের বয়স হতে হবে। আমি কম বয়সী ছেলে মেয়ের বিয়ে রেজিষ্ট্রি করি না।
মেম্বার
এইটা তুমি খুব বড় অন্যায় করছো ঘটক, শিমুর বয়স যে আঠারো হয় নাই, এইটা আমাকে তোমার আগে বলা উচিত ছিল।
মেম্বার
যাই হোক যাই হোক. . . . কি চমৎকার গান! এই ছোট মেয়ে দু’টো আমার কথাই বলেছে।
আইনেও তাই আছে। আসলে শিমুর মা আর আমি ঠিক করেছি যে, শিমুর
পড়াশোনা শেষ হলে তারপর আমার ছেলের সাথে শিমুর বিয়ে দেব। তার আগে না।
শিমুর মা মেম্বরের কথা প্রথমে বুঝতে পারে না। মেম্বর শিমুর মার দিকে তাকিয়ে।
শিমুর মা
এ্যাঁ!! কেন? ও হ্যা হ্যা...
মেম্বার
আর এই যে ঘটক, তুমি কিন্তু আর কোন শিশুবিয়ের ঘটকালী করবা না। ঠিক আছে? নইলে তোমার খবর আছে।
ঘটক
আচ্ছা আচ্ছা. . .
ঘটক মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ করেই কোত্থকে যেন মিনি এসে ঘটকের ঘাড়ে উঠে বসে। ঘটক ভয় পেয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালায়। সবাই হেসে ওঠে।)
সমাপ্ত
إرسال تعليق