প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক টিভি স্পটের স্ক্রিপ্ট



১। ইনডোর- একটি বাসার ড্রইংরুম। দিন

দেয়ালে একজন বয়স্ক লোকের ছবি টানানো, একটি মেয়ে ছবিটি দেখছে। ছবি থেকে মুখ ঘুরিয়ে মেয়েটি ক্যামেরায় তাকায়।

মেয়ে

আমার বাবা মৃত্যুর আগে খুব আনন্দে সময় কাটিয়ে গেছেন।





ফ্ল্যাশ ব্যাক

২। ইনডোর- বাবার রুম। রাত

বাবা অসুস্থ। কস্ট পাচ্ছেন তিনি। পরিবারের সবাই তার পাশে মেয়েটি ফোন করে এ্যাম্বুলেন্স ডাকে।



৩। আউটডোর- মেয়েটির বাসার সামনে

একটা এ্যাম্বুলেন্স আসে। সবাই ধরে তাকে এ্যাম্বুলেন্সে তোলে। এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে উদ্যেশে রওনা হয়। ২ ও ৩ নম্বর দৃশ্যের ভিজ্যুয়ালের সাথে নিচের ভয়েজ ওভার যাবে।

মেয়ের ভয়েস:

বাবার ক্যান্সার হয়েছিলো। ধরা পড়লো অনেক দেরিতে। ডাক্তার জানিয়ে দিলো হাসপাতালে ছোটাছুটি করে খুব লাভ নেই।



৪। ইনডোর- ডাক্তারের চেম্বার। দিন

ডাক্তারের চেম্বারে মেয়েটি। বাবা নেই সেখানে। ডাক্তার রিপোর্ট দেখা শেষ করে কথা বলে।

ডাক্তার

দেখুন, আপনার বাবাকে পুরো বিষয়টি জানানো উচিত। উনার কোন বিষয়ে কোন পরিকল্পনা থাকতে পারে, কোন ইচ্ছে থাকতে পারে- প্রস্তুতির ব্যাপার থাকতে পারে।

মেয়ে

জ্বী . . .

ডাক্তার

ও আর একটা কথা, আপনারা প্যালিয়েটিভ কেয়ারের সম্পর্কে জানেন?

মেয়ে

না।

ডাক্তার

দেখুন, আপনার বাবার মত অসুস্থ মানুষদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক কিছু সমস্যা তৈরী হয়। তাদের এই সমস্যাগুলোকে খুঁজে বের করে রোগীকে কিভাবে ভালো রাখা যায় সে চেষ্টাটাই হলো প্যালিয়েটিভ কেয়ার। ঢাকার কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা আছে। আপনারা তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সার্ভিস নিতে পারেন। আবার নিজেরা শিখে ঘরেও কেয়ার নিতে পারেন।



৫। ইনডোর- মেয়েটির বাসার ড্রইংরুম

মেয়ের ভয়েস

সবাই খুব ভেঙে পড়েছিলাম।



৬। আউটডোর - পিজি হাসপাতাল

মেয়েটি ও তার স্বামীকে পিজি হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ারে ঢুকতে দেখা যাবে।

মেয়ের ভয়েস

তবু, ডাক্তারের পরামর্শে পিজি হাসপাতালে যোগাযোগ করলাম।


৭। ইনডোর- পিজি হাসপাতাল প্যালিয়েটিভ কেয়ার

প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটের একজন কর্তকর্তার সাথে কথা বলতে দেখা যাবে মেয়েটি এবং তার স্বামীকে। এর মধ্যেই মেয়েটির ভয়েজওয়ার শোনা যাবে।

মেয়ের ভয়েস

তাদের কাছ থেকে জেনে নিলাম কিভাবে বাবাকে একটু ভালো রাখা যাবে।



৮। ইনডোর- মেয়েটির অফিস ও বাসা। দিন

মেয়েটির অফিসে কাজ করছে। ঘরে এসে রান্না করছে। ঘর গুছাচ্ছে। স্বামীর যত্ন নিচ্ছে। শিশুর যত্ন নিচ্ছে।

মেয়ের ভয়েস

আমার এক ভাই বিদেশে থাকে, সে চলে আসতে পারছেনা। আমি একটা চাকরী করি, আমি থাকি আমার পরিবার নিয়ে বাসা থেকে বেশ দূরে। ফলে প্রতিদিন আসা যাওয়া করা সম্ভব ছিলো না।

 


৯। ইনডোর- বাবার ঘর। রাত

বাবার ঘরে মা কোরআন শরীফ পড়ে শোনাচ্ছেন। মেয়ে অফিসে থেকে আসে। বাবাকে খাইয়ে দিচ্ছে। বই পড়ে শোনায়।

মেয়ের ভয়েস

সপ্তাহে হয়ত ৩/৪ দিন এসে বাবার যত্ন নিতে পারতাম। মা একা পারছিলো না।

গ্রামের একজন মহিলা মায়ের সাথে বাবাকে যত্ন নিচ্ছে। খাইয়ে দিচ্ছে।

মেয়ের ভয়েস

তখন আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে একজন আত্মীয়কে নিয়ে আসলাম। মায়ের সাথে সেও বাবাকে দেখাশোনা করতো ।



১০। ইনডোর - ড্রইংরুম। দিন

বাবা একটা পেপার পড়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। খুব বিরক্ত হচ্ছে সে। পাশের বাসার হাসিখুশি একজন ছেলে প্রবেশ করে। বাবার হাতের থেকে পেপার নিয়ে পড়তে শুরু করে। বাবার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

মেয়ের ভয়েস

আমাদের বাসার পাশে এক আত্মীয়ের ছেলে প্রতিদিন সকালে বাসায় চলে আসতো। বাবাকে পত্রিকা পড়ে শুনাতো।

 


১১। আউটডোর- নদীর পাড়। দিন

বাবাকে নদীর পাড়ে ঘুরছে ছেলেটি। বাবার মুখে পরম প্রশান্তি।

মেয়ের ভয়েস

বাবা যদি কখনো বাইরে ঘুরতে যেতে চাইতো, ও সময় পেলেই বাবাকে নিয়ে যেতো।



১২। ইনডোর – বাবার রুম। দিন

ভিডিও কলে ছেলের সারেথ কথা বলছে বাবা। পাশে মা বসে। কথা শেষ করে ফোনটা মা এগিয়ে দেয় বাবা।

মেয়ের ভয়েস

মা প্রায় প্রতিদিনই আমার ছোট ভাইয়ের সাথে বাবাকে ভিডিও কলে কথা বলিয়ে দিতেন। বাবা খুব খুশি হতো।



১৩। ইনডোর – ড্রইংরুম। দিন

বোবার সমবয়সী দুই তিনজন লোক বাবার সাথে গল্প করছে। তাদের সবার মুখে হাসি। গ্রামের মহিলাটি চা দিয়ে যায়। সাথে মা আসে। সবার সাথে বসে চা খায়।

মেয়ের ভয়েস

বাবার সমবয়সী যারা এলাকায় আছেন, তাদের সাথেও কথা বলেছিলাম। তারাও প্রায়দিন বিকেলে চলে আসতেন, সবাই মিলে চা খেতে খেতে গল্প করতেন।



১৪। ইনডোর – ড্রইংরুম। দিন

বাবার শরীর খারাপ। দ্রুত একজন ডাক্তার ঢোকেন। দ্রুত কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাসি মুখে কথা বলতে বলতে ব্যায়াম করিয়ে দিতে থাকে।

মেয়ের ভয়েস

মাঝে মাঝে বাবার খুব শারীরিক কষ্ট হলে আমাদের এলাকার একজন ডাক্তার আছেন, তিনি এসে কিছু ব্যায়াম করাতেন বাবাকে দিয়ে বা মাসাজ করে দিতেন।



১৫। ইনডোর – মেয়ের ড্রইংরুম। দিন

মেয়ে কথা বলছে।

মেয়ের ভয়েস

এভাবেই বাবার চলে যাবার দিন এগিয়ে আসছিলো। বাবাও তা জানতেন, তবু তার মুখে সব সময়ই হাসি ছিলো।




১৬। ইনডোর – বাসার সামনে। দিন


বাবা মারা গেছেন। সাদা কাপড়ে তাকে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। অনেক লোকে সমাগম।

মেয়ের ভয়েস

একসময়তো চলেও গেলেন। আমাদের পরিবার ভীষন কৃতজ্ঞ আমাদের প্রতিবেশীদের প্রতি, আত্মীয়দের প্রতি। তারা সব সময় বাবার পাশে ছিলেন।

 


Post a Comment

أحدث أقدم